স্নিগ্ধা চৌধুরী
বালাকোটের পর ফের একবার কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেন এক রহস্যময় চেহারা মুখে নির্লিপ্তির ছায়া, অথচ ভিতরে বদলার আগুন। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সবাইকে চমকে দিয়েছিল। এবারও ‘অপারেশন সিঁদুরে’ চালিয়ে দিল ভারত, আর শত্রুপক্ষ টেরই পায়নি!
সেদিনের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে ছিলেন অত্যন্ত স্বাভাবিক। দেশের উন্নয়ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বক্তৃতা দিলেন, হাসলেন, এমনকি ‘পি’ শব্দ নিয়ে রসিকতাও করলেন। কিন্তু কেউ জানত না, একই সময়ে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রস্তুতি নিচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার।
মোদীর এই মনোসংযম অভাবনীয়। ঝড়ের আগে যেমন প্রকৃতি শান্ত থাকে, ঠিক তেমনই মোদীর নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য অতর্কিত ও নির্ভুল। তাঁর মধ্যে যেন মিশে আছে এক কৌশলী খেলোয়াড় ও শান্ত সমরনায়কের সত্তা।
বালাকোটের আগের দিনও মোদী ছিলেন ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে। শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের সময় মুখে ছিল গাম্ভীর্য, কিন্তু কল্পনাতীত ছিল পরের দিনের সাহসী পদক্ষেপ। এবারও পাকিস্তান শুধু বিভ্রান্তই নয়, সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। মক ড্রিল ভেবে তারা ভুলপথে গিয়েছিল।
এই ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপে ভারতের বার্তা স্পষ্ট বক্তৃতা ও ভাবনায় উদারতা, কিন্তু নিরাপত্তা ও প্রতিরোধে কঠোরতা। প্রধানমন্ত্রীর অভিব্যক্তি থেকে কিছুই পড়ে ওঠা যায় না। যেন এক জীবন্ত পোকার ফেস!
‘প’ দিয়ে পরিকল্পনা, ‘প’ দিয়েই প্রতিশোধ এ যেন এক নতুন রাজনৈতিক ব্যাকরণ। আর তাতে পাকিস্তান শুধু হতবাক নয়, বারবার ছদ্মবেশে ধরা খাচ্ছে। মোদী যেন বোর্ডে বসে দাবার চাল দিচ্ছেন, আর প্রতিপক্ষ বুঝতেই পারছে না, কোন গুটিটা তাদের পতনের কারণ হবে।
