ভারতের চারটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে পাক আক্রমণের জবাবে পাকিস্তানের ছ’টি সামরিক বিমানঘাঁটি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাতভর পাকিস্তানের ধারাবাহিক হামলার পর, শনিবার সকালে ভারত সরকার জানিয়েছে, ভারতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি—উধমপুর, পাঠানকোট, আদমপুর এবং ভূজের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। জবাবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ছ’টি পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে নিখুঁত এবং নিয়ন্ত্রিত হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র পাকিস্তানের রফিকি, মুরিদ, চকলা, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর ও চুনিয়া বিমানঘাঁটি। সরকার জানিয়েছে, সবক’টি হামলা পরিকল্পিত এবং সংযত ছিল যাতে অসামরিক ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
শনিবার সকালে বিদেশ মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিশেষ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কর্নেল সফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিংহ জানান, রাতভর পাকিস্তান ২৬টি কৌশলগত স্থানে হামলার চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ছিল বিমানঘাঁটি ও পরিবহণ কেন্দ্র। রাত ১টা ৪০ মিনিটে পাঞ্জাবের এক বিমানঘাঁটিতে দ্রুতগতি সম্পন্ন মিসাইল ছোঁড়া হয়। এ ছাড়া শ্রীনগর, আওয়ান্তিপুর ও উধমপুরের কাছাকাছি হাসপাতাল ও স্কুল চত্বরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। অসামরিক এলাকায় পাকিস্তানের বিনা প্ররোচনায় এমন হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত।
কর্নেল কুরেশি বলেন, “পাকিস্তান ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও দূরপাল্লার কামান দিয়ে পশ্চিম সীমান্তে এক টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত সংযত থেকে কেবল পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় পাল্টা আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে ছিল রাডার ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, অস্ত্র মজুত করার ঘর ও যোগাযোগ কেন্দ্র। পাসরুর ও সিয়ালকোট বিমানঘাঁটিতে নির্ভুল ভাবে আঘাত করা হয়েছে।”
উইং কমান্ডার সিংহ বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শত্রুকে সব ভাবে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। “এস-৪০০ ব্যবস্থা ধ্বংস, সিরসা ও সুরতগড় ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়া, নাগরোটার ব্রহ্মোস ঘাঁটি ও গোলাবারুদ কেন্দ্র ধ্বংস করার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো”, বলেন উইং কমান্ডার সিংহ। সরকার পাকিস্তানের করা এই সংক্রান্ত দাবি খণ্ডন করে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া ছবি প্রকাশ করেছে।
বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী বলেন, “পাকিস্তানের পদক্ষেপ উসকানিমূলক।” তিনি রাজৌরিতে পাক গোলাবর্ষণেরও নিন্দা করেন, যেখানে অতিরিক্ত জেলা কমিশনার রাজকুমার থাপা-সহ কয়েক জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের দাবি মিথ্যা ও অপপ্রচারে ভরা। ভারত দায়িত্বশীল ও যুতসই জবাব দিয়েছে।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ভারত জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এখনও খোলা—যদি পাকিস্তানও সংযম দেখায়। কর্নেল কুরেশি বলেন, “আমাদের প্রতিক্রিয়া ছিল নিয়ন্ত্রিত এবং কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ।”
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
