১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পটভূমিতে এক সাহসী নারী গুপ্তচরের কাহিনী আলোচিত হয়েছে, যার নাম সেহমত। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ ছাত্রী থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা গুপ্তচর। তাঁর গোপন মিশন ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য সংগ্রহ করা, আর এর জন্য তাঁকে পাক সেনা কর্মকর্তার সাথে বিয়ে করতে হয়েছিল।
সেহমতের বাবা ছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর একজন কর্মী, এবং তিনি তাঁর মেয়েকে দেশের জন্য কাজ করার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর, যখন তাঁর বাবা ক্যানসারে ভুগছিলেন, তিনি তাঁর মেয়েকে গুপ্তচরের কাজে প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেহমত তখন মাত্র ২০ বছর বয়সী, শাস্ত্রীয় নৃত্য এবং বেহালা বাজানো শিখতেন, কিন্তু বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে গুপ্তচর হিসাবে কাজ শুরু করেন।
তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইকবাল সৈয়দকে বিয়ে করেছিলেন এবং পাকিস্তানি সেনার গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ প্রায় নিশ্চিত হয়ে ওঠে। সেহমত ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য পাকিস্তানের সাবমেরিন পিএনএস গাজীর অবস্থান জানিয়ে দেয়, যার ফলে নৌবাহিনী পাকিস্তানি সাবমেরিনটি ধ্বংস করে।
কিন্তু সেহমতের পথ ছিল একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ। পাকিস্তানি সেনা এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর সম্পর্কে সন্দেহ করতে শুরু করে। অবশেষে, সেহমত তাঁর জীবন বাঁচাতে আবদুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেন এবং তার স্বামী ইকবালও জানতে পেরে তাকে হত্যা করেন। গর্ভবতী অবস্থায়, সেহমত নিরাপদে ভারতে ফিরে আসেন এবং জীবনের বাকি সময় পাঞ্জাবের মালেরকোটলায় কাটান।
সেহমত ২০১৮ সালে মারা যান, এবং তাঁর আসল পরিচয় আজও গোপন রাখা হয়েছে। তাঁর জীবন ছিল এক সাহসিকতার নিদর্শন, যা ভারতীয় গুপ্তচরদের মধ্যে এক কিংবদন্তি হয়ে থাকবে।
