Jazzbaat24Bangla • Beta
দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি
সাংসদের কাছে পাক রেঞ্জার্সের হাতে বন্দী জওয়ান স্বামীর মুক্তির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আর্জি জানানোর পরই রবিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে আশ্বস্ত করলেন এবং তার খোঁজখবর নিলেন। ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষের আবহে তিন সপ্তাহ আগে পাক রেঞ্জার্সদের হাতে বন্দী হন পাঠানকোটে বিএসএফ- এ কর্মরত স্বামী পূর্ণম কুমার সাউ। এর পর থেকেই পুর্ণমের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রজনী সাউ পাঠানকোট থেকে শুরু করে হিমাচল প্রদেশ পর্যন্ত সর্বত্র বিএসএফের দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বললেও স্বামীর বিষয়ে কোনো সদর্থক উত্তর পান নি। তারপরই তিনি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আর্জি জানান।
রবিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ওই জওয়ানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফোন করে তার শরীর ও স্বাস্থ্যের এবং তার পরিবারের অন্যান্যদের খোঁজ খবর নেন। প্রত্যুত্তরে রজনী দেবী জানান বর্তমানে তারা অত্যন্ত আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে চলেছেন। আর শ্বশুরের সম্প্রতি স্পাইনাল কর্ডে একটা অপারেশন হয়েছে। ভাসুর টোটো চালান। রজনী দেবী নিজে আগে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে চাকরি করলেও এখন তিনি গৃহবধূ। বর্তমানে তার স্বামীর রোজগারই তাদের গোটা পরিবারের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই স্বামীর অ্যাকাউন্টের কোনো স্টেটমেন্ট এখনো পর্যন্ত পাচ্ছেন না। এটিএম কার্ড থেকে শুরু করে সমস্ত জরুরী তথ্যই স্বামীর কাছে রয়েছে। স্বামী ফোন পের মাধ্যমে তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলতেন। কিন্তু স্বামীর কাছে ফোন না থাকায় তাকে টাকাও পাঠাতে পারছেন না। শশুর শাশুড়ি দুজনেই অসুস্থ সেক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সমস্ত রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যতক্ষণ না সমস্যার সমাধান হয় ততক্ষণ বাড়ির কাছাকাছি রজনী দেবী যাতে কোন কাজ করতে পারেন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বলেন যেহেতু "ওদের আন্ডারে কাজ করে, তাই এটা কখনোই ভাবতে পারি নি যে ওরা কোন কেয়ার করবে না।" মুখ্যমন্ত্রী রজনী দেবীকে নিজের বোনের মতো সম্বোধন করে তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি অন্য সোর্স কাজে লাগাবেন এবং বিএসএফের আধিকারিকদের সাথে কথা বলবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর বন্দী জওয়ানের স্ত্রী রজনী সাউ অনেকটাই মনে ভরসা পেয়েছেন। পাক রেঞ্জার্সের হাতে বন্দী স্বামীর মুক্তির আশায় যখন একের পর এক বিএসএফের দপ্তরে হাজিরা দিয়েও রজনী দেবী যখন দিশেহারা তখন সেই সংকটজনক মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বলে অনেকটাই নিজেকে সামলে নিতে পেরেছেন তিনি।
