ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান ঘিরে ফের চরম উত্তেজনা! মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের চেহারাই যেন বদলে গেল। কৃষ্ণনগর এলাকা, শিলাবতী নদীর পাড় সর্বত্র একটাই সুর, “উন্নয়ন চাই, উচ্ছেদ নয়!” ঘরবাড়ি, দোকানপাট সব হারানোর আশঙ্কায় গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তায় নেমেছেন শতাধিক নারী। তাঁরা শুধু প্রতিবাদ করছেন না, তাঁরা লড়ছেন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য।
রাজ্য সরকার মাস্টারপ্ল্যানের জন্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতেই শুরু হয় কাজ। উদ্দেশ্য ভালো হলেও বাস্তব রূপরেখায় অনেক প্রশ্ন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, উন্নয়নের আড়ালে তাদের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
ঘাটাল ও দাসপুরে ইতিমধ্যেই একাধিকবার দেখা গেছে এই বিক্ষোভ। এদিনের প্রতিবাদ আরও জোরদার। ঘাটাল পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক মহিলা বলছেন, “আমরা মাস্টারপ্ল্যানের বিরোধী নই, তবে আমাদের ঘরবাড়ি যেন না ভাঙে।” এই দাবিতে তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঘাটালে ডাকা হয় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি,
জেলা সেচ দফতরের আধিকারিক উত্তম হাজরা, মাস্টারপ্ল্যান মনিটরিং কমিটির সদস্য ও কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুদাইত,
ঘাটালের মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস, দাসপুরের বিধায়ক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা। জেলা সভাধিপতি প্রতিভা মাইতির বক্তব্য,“অনেক মানুষ জেলাশাসকের কাছে তাঁদের সমস্যা জানিয়েছেন। আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে কাজ করছি।”
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই আলোচনার ফল কী হবে? উন্নয়ন ও জনস্বার্থের মাঝে কি কোনও সেতুবন্ধন সম্ভব? উত্তর সময়ই দেবে। তবে আজ শিলাবতীর পাড় থেকে যে মিছিল উঠেছে, তা শুধু একদিনের প্রতিবাদ নয়, তা এক দীর্ঘ লড়াইয়ের সূচনা।
