পাকিস্তানে বন্দি বিএসএফ জওয়ান পূর্ণমকুমার সাউ মুক্তি পেলেন। বুধবার সকালে আদতে হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা পূর্ণমকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। গত ২৩ এপ্রিল থেকে পূর্ণম পাকিস্তানি রেঞ্জারদের হেফাজতে ছিলেন। সীমান্তে এমন ঘটলে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’-এর পরে সংশ্লিষ্ট জওয়ানকে মুক্তি দেওয়াই দস্তুর। কিন্তু ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন পূর্ণমকে ছাড়েনি পাকিস্তান। তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। পূর্ণমের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও পূর্ণমের ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু স্বামী মুক্তি না পাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন তাঁর স্ত্রী রজনী সাউ। অবশেষে মুক্তি।
পহেলগামে জঙ্গি হানার পর দিন অর্থাৎ, গত ২৩ এপ্রিল পঞ্জাবের পঠানকোটে কর্মরত অবস্থায় ভুল করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিলেন পূর্ণম। তখনই পাক রেঞ্জার্স তাঁকে ধরে এবং ২০ দিন ধরে আটকে রাখে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় অমৃতসরের কাছে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পূর্ণমকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয় পাক রেঞ্জার্স। এ কথা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে বিএসএফ।
বিএসএফ বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে কনস্টেবল পূর্ণমকুমার সাউকে পাকিস্তান থেকে বিএসএফ-এর মাধ্যমে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল সকাল ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ ফিরোজপুর সেক্টরে ‘অপারেশনাল ডিউটি’র সময় দুর্ঘটনাবশত তিনি পাকিস্তানি সীমান্তে প্রবেশ করেন এবং পাক রেঞ্জার্স তাঁকে আটক করে।”
পাক সীমান্তের কাছে কাঁটাতারের পাশে ডিউটিতে ছিলেন পূর্ণম। সে সময় তিনি বিএসএফের উর্দি পরিহিত অবস্থায় ছিলেন, সঙ্গে ছিল সার্ভিস রাইফেল। সূত্রের খবর, প্রবল গরমে ক্লান্ত হয়ে তিনি বিশ্রাম নিতে একটি গাছের তলায় বসে পড়েন। বুঝতে পারেননি, সেই সময় অজান্তেই পাকিস্তানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ফেলেছেন। যেখানে পাক রেঞ্জার্স তাঁকে আটক করে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
