Indus Water Treaty: সিন্ধু জল চুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি পাকিস্তানের। ভারত সরকারকে এই মর্মে চিঠিও লিখল পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফের সরকার। সিন্ধু জল চুক্তি বন্ধের প্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে পাকিস্তান। জল সংকটের সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা পাকিস্তানের। সূত্রের খবর, চুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত ফের বিবেচনা করার আর্জি জানিয়ে বুধবারই ভারত সরকারের জলশক্তি মন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তানের জলসম্পদ মন্ত্রক।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে ২৬ জন পর্যটককে খুনের দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর ই তৈবা জঙ্গিগোষ্ঠীর ছায়া সংগঠন টিআরএফ। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যত কূটনৈতিক স্ট্রাইকের ঘোষণা করে ভারত। ২৩ এপ্রিলই বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। সেখানেই পাকিস্তানকে সবক শেখাতে একগুচ্ছ কূটনৈতিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যার মধ্যে অন্যতম, সিন্ধু জল চুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত।
১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি। সেই অনুযায়ী, সিন্ধু নদের প্রবাহের ৩০ শতাংশ জল ভারত ও বাকি ৭০ শতাংশ জল পাকিস্তান পেত। তবে পহেলগাঁওতে হামলার পরই সেই চুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এমন পদক্ষেপকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়াটার স্ট্রাইক বলেও অভিহিত করেছে ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি, পাকিস্তানকে বন্যা সতর্কতা সংক্রান্ত কোনও খবরও ভারতের তরফে জানানো হবে না বলে ঘোষণা করে কেন্দ্র।
পাকিস্তানের কৃষিকাজ থেকে শুরু করে শিল্পের সিংহভাগই সিন্ধু নদের জলের উপর নির্ভরশীল। ফলে সেদেশে জলের আকাল আরও চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের জল সম্পদ মন্ত্রক। আর তাই বুধবার ভারতকে কাকুতি মিনতির সুরে চিঠি লিখে সিন্ধু জল চুক্তি পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন পাকিস্তানের জল সম্পদ মন্ত্রকের সচিব সৈয়দ আলি মুর্তাজা। এব্যাপারে যেকোনও মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে তারা আলোচনাতেও বসতে রাজি বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
যদিও সন্ত্রাসে ইতি না টানা পর্যন্ত অবস্থানে অনড় ভারত। মঙ্গলবারই সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, “আন্তর্জাতিক সীমান্তে যতক্ষণ না পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেওয়া পাকাপাকিভাবে বন্ধ করছে, ততদিন সিন্ধু জল চুক্তি বাতিলই থাকবে।” সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে একই হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। জল ও রক্ত একই সঙ্গে বইতে পারে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
