স্নিগ্ধা চৌধুরী
সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু সীমান্তের গর্ব নয়, এবার রাজপথের রাজনীতি। আসছে বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন! ফলে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। সেনার বীরত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ, যেখানে একে একে উঠে এসেছে তিন প্রধান দল- বিজেপি, তৃণমূল ও কংগ্রেস। তেরঙ্গার ছায়ায় চলছে গৌরবের লড়াই, কিন্তু তা কেবল সেনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, এ এক মুঠোভর্তি ভোটের সুতোর টানাটানি।
প্রথমেই নাম আসছে বিজেপির! যারা এই তেরঙ্গা তর্জায় সবচেয়ে আগে পৌঁছেছে। তাদের ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ ১৬ মে শহরে এক শোরগোল তুলতে চলেছে। কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত এই মিছিল হবে না শুধু দেশপ্রেমের গৌরবযাত্রা, বরং বিজেপির রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণাও করেছেন, মোদীজির নেতৃত্বে পাকিস্তান মুছে গেছে, কাশ্মীরের নিরীহ মানুষদের হত্যার প্রতিশোধ আমরা নিয়েছি। এতে দেশের পতাকা শুধু গর্বের প্রতীক নয়, বিজেপির শক্তির সিম্বলও হয়ে উঠছে।
কিন্তু তৃণমূলও পিছিয়ে নেই, বরং তারা সটান বলছেন, ‘দেশপ্রেমের মঞ্চে আমাদেরও থাকবে জায়গা’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সেনারা দেশের মাটি রক্ষা করতে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানানো রাজনৈতিক নয়, মানবিক কর্তব্য। তাই, দলের কর্মীরা শহরে মিছিল করবে, যেখানে তারা মোমবাতি হাতে সেনার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। তবে মমতার বার্তা, এটা আমাদের জাতীয় কর্তব্য, দলের রাজনীতি নয়।
আর কংগ্রেস? তারা তো একেবারে অবাক করে দেওয়ার পন্থায় চলে এসেছে। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি বলেছেন, দেশভক্তি কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়। এটা আমাদের সকলের। কংগ্রেস তাদের নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামবে, যেখানে মোমবাতি ও জাতীয় পতাকা হাতে সেনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হবে। এটা শুধু দলের নয়, গোটা দেশের সম্মান, বলছেন কংগ্রেস নেতারা।
তিনটি দল, এক একই লক্ষ্য! সেনার গৌরবকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করা। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই তেরঙ্গার রঙ কার হাতে যাচ্ছে? বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, তিন দলই সেনার শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, কিন্তু কে, কিভাবে পাবে সেই সোনালি লাভের ঝুলি?
দেশপ্রেমের আবেগের মঞ্চে যখন তিন রাজনৈতিক মহল একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, তখন ভোটের মাঠে এই তেরঙ্গা আর রাজনৈতিক আড্ডায় কোনদিকে ঘুরবে, তা দেখতে আর কত দিন লাগবে?
