Jazzbaat24Bangla • Beta
দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি
পাক রেঞ্জার্সের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রটোকলের কারণে এখনই হয়তো কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরা হবে না। বুধবার রাতে পূর্ণম তার এক বন্ধুর ফোন থেকে স্ত্রী রজনী সাউকে ফোন করেন। ফোনে রজনী দেবীকে জানান প্রটোকলের কারণে এখনই তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন না তবে যত শীঘ্র সম্ভব তিনি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করবেন। এখনো বেশ কিছুটা সময় লাগবে ফিরতে। তবে ভয়ের কোন কিছু নেই। আপাতত তিনি পাঠানকোটে আছেন। অন্যদিকে রজনী দেবী জানান বিএসএফের আধিকারিকরা তাকে ডাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি হয়তো নিজে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন। তবে সেটা কবে সম্ভব হবে সেটা এখনই বলতে পারছেন না। এই মুহূর্তে ফৌজিদের মুভমেন্ট বন্ধ আছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারপরেই বাড়ি ফিরবে পূর্ণম।
তবে ১৭ বছর ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে জওয়ানের ভূমিকা পালন করার পর কি করে তার স্বামী পাকিস্তান সীমান্তে চলে গেলেন এটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে রজনী দেবীর মনে। তিনি জানান লাইন অফ কন্ট্রোলের আশেপাশের এলাকায় যেখানে কৃষকরা চাষ আবাদ করেন সেই এলাকায় নজরদারি করার দায়িত্বে ছিলেন তার স্বামী। তার শোনা কথা অনুযায়ী কোন কারণে তার স্বামী ক্লান্ত হয়ে গাছ তলায় যেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সেই জায়গাটা পাকিস্তান সীমানার মধ্যে পড়ে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর এখনো তার মেডিকেল কোনো টেস্ট হয় নি। সেটা খুব শীঘ্রই হবে বলে জানা গেছে। রজনী দেবী জানান গত মার্চে হোলিতে তার স্বামী বাড়ি এসেছিলেন। বছরে তিন বার উৎসবের সময় এক মাসের ছুটিতে আসেন তার স্বামী। আগামী আগস্টে স্বামীর আসার কথা ছিল কিন্তু তার আগে এই ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় কবে নাগাদ আসতে পারবেন তা এখনই নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না। দশ বছরের বিবাহিত জীবনে রজনী কোন দিনই তার স্বামীর কর্মক্ষেত্রে যান নি। বিয়ের সময় তার স্বামীর কর্মক্ষেত্র মালদা ছিল। তারপর কাশ্মীরের বারমুল্লার পর পাঠানকোটে বদলি হোন। গত তিন বছর ধরে তিনি পাঠানকোটে রয়েছেন। এরপর ফিরোজপুরে পাঁচ দিন ডিউটি করার পর ষষ্ঠ দিনের মাথায় তার স্বামীকে পাক রেঞ্জার্সরা বন্দী করে নিয়ে যায়। তবে রজনী জানান তার স্বামীকে কোনরকম শারীরিক নির্যাতন করা না হলেও তার ধারণা থাকে মানসিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
জওয়ানের স্ত্রী জানান পহেলগামে জঙ্গি হানার ঘটনার পরে যদি ভারত পাক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হতো তবে তার স্বামী আগেই মুক্তি পেত। তবে এবার স্বামী বাড়ি ফিরলে একটা গ্র্যান্ড পার্টির আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান। তার স্বামীর প্রিয় খাবারগুলি সেদিন থাকবে পার্টিতে। তবে ভবিষ্যতে তার সন্তান যদি বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায় সেক্ষেত্রে তিনি বাধা দেবেন কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে রজনী জানান তার বাপের বাড়িতে দাদা জামাইবাবু সহ পরিবারের অন্যান্যরা সেনাবাহিনীতে আছেন। তার নিজের শ্বশুরমশাইও সেনাবাহিনীতে ছিলেন। কিন্তু তার সন্তান যদি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায় তাতে তার কোন আপত্তি নেই তবে কোনো অফিসার হয়ে যাতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে সে কথাই তাকে বলবেন।
