বিক্রান্ত রায়
চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্দোলন আরও একবার রণক্ষেত্র করে তুলল বিকাশ ভবনের চত্বরকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাত দফা দাবিতে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ, আর সেই আন্দোলন মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সবচেয়ে চমকে দেওয়া ঘটনা ঘটে যখন হঠাৎই উপর থেকে নিচে ঝাঁপ দেন এক মহিলা! রুম্পা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যায়, তিনি চাকরির ফলাফলের খোঁজে এসেছিলেন বিকাশ ভবনে। দীর্ঘক্ষণ ভবনের ভিতরে আটকে পড়ার পর হতাশায় তিনি নিচে লাফিয়ে পড়েন। পায়ে গুরুতর আঘাত পান। পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মা অসুস্থ, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ শুনছিল না।” এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা ‘পুলিশ গো ব্যাক’ স্লোগানে গর্জে ওঠেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। বিকাশ ভবনের মূল গেট আটকে রেখে শুরু হয় লাগাতার বিক্ষোভ। এমনকী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের পিছনের গেটেও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হলেও, ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলনের আঁচে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডিসি বিধাননগর অনীস সরকার। তবে তাঁকে ঘিরেও শুরু হয় ক্ষোভের বিস্ফোরণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ভিতরের অংশে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
চাকরিহারা ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের দাবি, তাঁরা পরীক্ষায় সফল হয়েছেন, তবুও নিয়োগ পাচ্ছেন না। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত না থেকেও তাঁদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলন শুধুমাত্র চাকরির জন্য নয়, এটি সম্মানের জন্য, ন্যায়বিচারের জন্য।
দিনের পর দিন বিকাশ ভবন পরিণত হয়েছে বঞ্চিতদের রণভূমিতে। প্রতিবার পুলিশের লাঠিচার্জ, প্রতিবার প্রশাসনের নিশ্চুপতা!সবটাই যেন প্রমাণ করছে, এই লড়াই শুধুই চাকরির নয়, এটা অস্তিত্বের প্রশ্ন।
এই উত্তাল পরিস্থিতি একটিই প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, চাকরি প্রাপ্তির ন্যায্য দাবি নিয়ে রাজপথে কেন নামতে হবে ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের? কেন তাঁদের কান্না, হতাশা, আত্মহননের হুমকিই একমাত্র জবাব পাওয়ার রাস্তা হয়ে উঠছে?
