তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তন। বর্ষীয়ান সাংসদ ও দীর্ঘদিনের সভাপতি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হল সভাপতির পদ থেকে। তাঁর জায়গায় কোনও একক নেতাকে না বসিয়ে, দলের তরফে ৯ সদস্যের একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—তৃণমূল কি এবার উত্তর কলকাতায় বীরভূম মডেলে পরিচালনার পথে হাঁটছে?
নতুন কোর কমিটিতে রয়েছেন অতীন ঘোষ, জীবন সাহা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, পরেশ পাল, শশী পাঁজা, সুপ্তি পাণ্ডে, স্বর্ণকমল সাহা, তপন সমাদ্দার এবং বিবেক গুপ্ত। অর্থাৎ স্থানীয় বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাবে।
তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, এই রদবদলের মূল লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো। জানা গিয়েছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতি পদে থাকা নিয়ে সম্প্রতি দলীয় অন্দরে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে, তাপস রায়ের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিরোধ দলীয় নেতৃত্বের নজরে আসে। সেই বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারের পর সেখানে একক নেতৃত্বের বদলে মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে কোর কমিটি চালু হয়েছিল। এবার উত্তর কলকাতাতেও তেমনই কমিটি-কেন্দ্রিক নেতৃত্ব কায়েম করল তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তি নয়—গোষ্ঠী নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতেই এই রূপরেখা।
তালিকায় কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তনই নয়, চেয়ারপার্সনদের নামও নতুন করে ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ২০২৬-এর ভোটের আগে সংগঠনকে আরও বেশি কার্যকর, স্বচ্ছ ও পরিশীলিত করতে আগ্রহী ঘাসফুল শিবির।
