Purnam Kumar Shaw: তিন সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের কবজায় ছিলেন তিনি। অবশেষে গত ১৪ মে বুধবার ভারতের চাপে এরাজ্যের হুগলির বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। যদিও বিএসএফ জওয়ানকে বন্দি করে মানসিক অত্যাচার চালিয়েছে পাকিস্তান রেঞ্জার্স। শুক্রবার সরকারি সূত্রে জানানো হল এমনই তথ্য।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ২৩ এপ্রিলই ভুল করে সীমান্ত টপকে গেলে বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউকে বন্দি করে পাক রেঞ্জার্স। হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা পূর্ণম। বুধবারই ফের দেশের মাটিতে ফিরে এসেছেন পূর্ণম। গত ১০ মে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয় ভারত পাকিস্তান। সেই বোঝাপড়ার ৪ দিনের মাথায় পূর্ণমকে ছাড়তে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
সূত্রের খবর, পাক রেঞ্জার্সের হাতে বন্দি দশায় পূর্ণম শারীরিক নিগ্রহের শিকার না হলেও তাঁকে মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয়। বাথরুমে যেতে দেওয়া হত না বিএসএফ জওয়ানকে। ঘুমোতে পর্যন্ত দেওয়া হত না। এছাড়াও নানান অমানবিক অত্যাচার করা হয় তাঁকে। সূত্রের দাবি, চোখে পট্টি বেঁধে ভয় দেখানো হয়েছে পূর্ণমকে। এমনকি ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছ থেকে। কোথায় কীভাবে সীমান্তে বিএসেফ মোতায়েন করা হয়েছে, সেসম্পর্কে খুঁটিনাটি জিজ্ঞেস করা হয় তাঁকে।
মানসিক ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে এখনও বেশ কিছুদিন পূর্ণমের সময় লাগবে বলে দাবি সূত্রের। বুধবার পূর্ণম এদেশের মাটিতে পা রাখার আগে পঞ্জাবের আটারি ওয়াঘা বর্ডারে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ একাধিক বোঝাপড়া চালায় বিএসএফ ও পাক রেঞ্জার্স। পূর্ণমকে ছাড়তে গড়িমসি করে পাকিস্তান রেঞ্জার্স। জয়েন্ট চেকের পর অবশেষে পূর্ণমকে এদেশে ফেরানো হয়।
যদিও ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসাতে খুশি রিষড়ার পরিবার। দেশের মাটিতে পূর্ণম পা রাখার পরই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সাউ পরিবার-সহ গোটা দেশবাসী। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারা। পূর্ণমের বাবা ভোলানাথ সাউ জানান, ছেলে ফের যাতে দেশরক্ষার কাজে ফেরেন, তেমনটাই চান তিনি।
