সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাস্তায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে এবার থেকে আর লোক আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না পরিবহণ ব্যবসায়ীদের ৷ শুধু তাই নয়, আগামী ১ জুন থেকে ‘সংযোগ’ নামে যে নতুন পোর্টালটি চালু হচ্ছে, তাতে নথিভুক্ত সমস্ত জরিমানা না-মেটানো পর্যন্ত গাড়ি সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র পুনর্নবীকরণও করা যাবে না ৷ আর এতেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পরিবহণ ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে।
রাস্তায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে আগে কেস বা মামলা কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পোর্টালে নথিভুক্ত হয়ে যেত ৷ একইসঙ্গে মালিকদের মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস চলে যেত। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পোর্টাল থেকে সেই অভিযোগের প্রিন্ট আউট নিয়ে নিতে পারতেন মালিকরা ৷ জমে থাকা বা নয়া জরিমানার অর্থ কিছুটা কম করার সুযোগও ছিল মালিকদের কাছে ৷ এই ক্ষেত্রে লোক আদালতের শুনানিতে মালিকদের আবেদনের ভিত্তিতে জরিমানার বেশ কিছুটা অর্থ মকুব হয়ে যেত ৷ কিন্তু, আগামী জুন থেকে সেই সুযোগ আর থাকছে না ৷
পয়লা জুন থেকে পরিবহণ দফতরের সঙ্গে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে একটি নতুন পোর্টাল চালু করতে চলেছে ৷ যার নাম ‘সংযোগ’ ৷ এই পোর্টালে আগের মতই সমস্ত কেস নথিভুক্ত হয়ে যাবে ৷ কিন্তু, এই নতুন পোর্টালের নিয়ম অনুযায়ী মালিকদের লোক আদালতে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না ৷ তেমনই সমস্ত কেসের ভিত্তিতে যে জরিমানার অর্থ দাঁড়াবে, তা মেটাতে হবে ৷ জরিমানার পুরো টাকা না-মেটানো পর্যন্ত, সেই নির্দিষ্ট গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন ফিটনেস সার্টিফিকেট, সিইএফ, পারমিট ও পলিউশন সার্টিফিকেট পুনর্নবীকরণ করা যাবে না।
তবে, এই বিষয় জয়েন্ট ফোরাম অফ ট্রান্সপোর্ট অপারেটরসের পক্ষ থেকে পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন এবং কলকাতা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে তাঁদের আপত্তি এবং সমস্যার কথা জানানো হয়েছে ৷
এই বিষয়ে অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই নয়া পোর্টাল নিয়ে মালিক পক্ষের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে ৷ কারণ একটি গাড়িতে যে জরিমানার অর্থ থাকবে, তা না-মেটানো পর্যন্ত আমাদের দৈনন্দিন কাজ যেমন সিএফ পারমিট নবীকরণ, পলিউশন সার্টিফিকেট নবীকরণ-সহ আরও বেশ কিছু কাজ আটকে থাকবে৷”
তিনি বলেন, “আগে লোক আদালতে গিয়ে জরিমানার অর্থ কিছুটা কম করিয়ে মিটিয়ে দিতেন মালিকরা ৷ এবার থেকে তারও আর সুযোগ রইল না ৷ রাস্তায় নিজস্ব গাড়ি-সহ অটো-টোটোর সংখ্যা বেড়েছে ৷ মন্দা হয়েছে পরিবহণ ব্যবসায় ৷ তাই অনেকক্ষেত্রেই অর্থাভাবে আকাশছোঁয়া জরিমানার টাকা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় মালিকদের ৷ এর ফলে জরিমানা মেটাতে ঢিলেমি দেখাবে মালিকরা কিংবা জরিমানা ফাঁকি দেবেন ৷ ফলে সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই রাস্তায় রমরম করে চলবে অজস্র গাড়ি ৷”
ওয়েস্ট বেঙ্গল অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ড-এর সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বহু গাড়ির ক্ষেত্রে বকেয়া জরিমানা রয়েছে ৷ যেগুলির বিষয়ে মালিকরা অনেক ক্ষেত্রেই অবগত থাকেন না ৷ তাই এই নতুন পোর্টালে বকেয়া জরিমানার জন্য কাগজপত্র নবীকরণের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা না-হয় কিংবা কাগজ নবীকরণ করার সময় যাতে পুরনো জরিমানার কোনও প্রভাব না আসে তা দেখতে হবে ৷ আমরা কতৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি ৷ তাঁদের তরফে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে বলে আশ্বাস মিলেছে ৷”
‘সংযোগ’ পোর্টালে আগামিদিনে যদি কেস হয়, সেই ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক যাতে কিছুটা কম করার ব্যবস্থা থাকে সেই আবেদন করেছে প্রায় সব পরিবহণ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি ৷ এই প্রসঙ্গে মালিকপক্ষের যুক্তি, জরিমানার টাকা ধীরে-ধীরে মালিকরা মিটিয়ে দেয় ৷ অর্থ ফাঁকি দেওয়ার কোনও অভিসন্ধি তাদের নেই ৷ আর যারা জরিমানা ফাঁকি দিতে চায়, তারা জরিমানা না-দিয়েই পুলিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে ও আগামিদিনেও চালাবে ৷ তবে, যারা আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে ব্যবসা করতে চাইছে, তাদের জন্যেই এই আবেদন বলে জানিয়েছেন ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
