রাজনীতির ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে যখন রাজনৈতিক নেতাদের জড়িয়ে এমন ঘটনা ঘটে, তখন তা নিয়ে শোরগোল হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঠিক তেমনই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত এলাকায়। অভিযোগ, স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন এক বিবাহিত বিজেপি নেতা! এই ঘটনায় অস্বস্তিতে দুই পরিবার তো বটেই, তোলপাড় রাজনৈতিক মহলেও।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। তৃণমূল কর্মী শতদল রায় (নাম পরিবর্তিত) খেয়াল করেন, স্ত্রী জবা রায় (নাম পরিবর্তিত) নিখোঁজ। নানা খোঁজাখুঁজির পরও কোনও হদিস না মেলায় শেষমেশ হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় স্ত্রীর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করেন তিনি। এর কিছুদিন পর খবর মেলে, তাঁর স্ত্রী রয়েছেন এক বিজেপি নেতার সঙ্গে, যাঁর নাম কমল দাস। তিনিও বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা।
জানা গিয়েছে, জবা এবং কমলের মধ্যে গোপনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াতের সূত্রে তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। যদিও বিষয়টি টের পাননি কেউই, না জবার স্বামী, না কমলের স্ত্রী।
জবা ও কমলের এই সম্পর্ক এবং তাঁদের একত্রে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে জল্পনা ও কানাঘুষো। দুই রাজনৈতিক শিবিরে অস্বস্তি বাড়লেও, এখনই কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না। স্থানীয় নেতারা বলছেন, ‘‘এই ধরনের কাজ দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ব্যক্তিগত বিষয় হলেও নেতাদের থেকে সমাজ একটা দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।’’
একদিকে ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ভেঙে পড়েছেন তৃণমূল কর্মী শতদল। অন্যদিকে, কাঁদতে কাঁদতে গলা ভেঙে ফেলেছেন বিজেপি নেতা কমল দাসের স্ত্রী। তাঁদের প্রশ্ন, ‘‘দাম্পত্যে এমন বিশ্বাসঘাতকতা কেন?’’
এদিকে, জবার মা মেয়ের এমন কাজ মেনে নিতে পারছেন না কিছুতেই। অসহায়ের মতো বলছেন, ‘‘আমার মেয়ে এমন কী করে করল! দুই সন্তানের কথা একবারও ভাবল না?’’
ঘটনার রাজনীতিক রং স্পষ্ট। এলাকাবাসী বলছেন, ‘‘নিত্যদিন রাজনৈতিক লড়াই দেখা যায়, কিন্তু এইভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাজনীতিকে ছায়া ফেলবে, ভাবিনি।’’
শেষমেশ, প্রশ্ন একটাই, ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায়ভার কি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তায়? নাকি এটা নিছকই দুটি পরিবারের ভাঙনের করুণ কাহিনি? রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, মানুষ যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়, তার প্রভাব পড়ে সমাজ এবং পরিবারের ওপরই।
