Yusuf Pathan: সন্ত্রাস বিরোধী প্রচারে দেশের হয়ে বিদেশে যাবেন না ইউসুফ পাঠান। তৃণমূলের তরফে নাকচ করে দেওয়া হল কেন্দ্রের বাছাই করা নাম। পাকিস্তানের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রচারে ৩২টি দেশে সর্বদলের মোট ৫৯ জন সদস্যের ৭টি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। তাতে তৃণমূল থেকে একমাত্র নাম ছিল বহরমপুরের তারকা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে ইউসুফকে ছাড়তে নারাজ তৃণমূল।
তৃণমূলের কোন প্রতিনিধি যাবেন, তা নিয়ে কেন্দ্র কেন সিদ্ধান্ত নেবে, সেই প্রশ্ন তুললেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “কেন্দ্র কীকরে তৃণমূলের প্রতিনিধি ঠিক করতে পারে? বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হত কেন্দ্রকে। বিজেপি কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে তৃণমূল কাকে পাঠাবে? সর্বদল বৈঠক বয়কট করেনি তৃণমূল। বরং তৃণমূলই একমাত্র পার্টি যারা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও রাজনীতি দেখায়নি।”
ইউসুফকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত রবিবারই তৃণমূলের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তৃণমূলের বরিষ্ঠ নেতাদের এপ্রসঙ্গে দাবি, পাকিস্তানের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে কেন্দ্রকে পূর্ণ সমর্থন করে এসেছে দল। স্রেফ তাই নয়, ভারতীয় সেনা ও অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য উদযাপনে শোভাযাত্রা বের করা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে বৈঠকও শুরু করেছে তৃণমূল।
গত ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর আসনে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান অধীর রঞ্জন চৌধুরিকে হারিয়ে জয়ী হন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিদেশে প্রচারে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে তাঁর নাম রেখেছিল কেন্দ্র। জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝাঁ-এর নেতৃত্বে তৃতীয় দলটি যাবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরে। এই দলেই নাম ছিল তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের। যদিও তাঁকে পাঠাতে নারাজ বাংলার শাসকদল।
প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগেই উত্তপ্ত হয়েছিল মুর্শিদাবাদ। ওয়াকফ ইস্যুতে প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব, খুনোখুনি পর্যন্ত দেখা গিয়েছে জেলার সুতি, সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান এলাকায়। বন্ধ হয়েছিল ইন্টারনেট। আদালতের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কিন্তু গোটা ঘটনায় বহরমপুরের সাংসদের কোনও প্রতিক্রিয়াই পাওয়া যায়নি। বরং ইনস্টাগ্রামে খোশ মেজাজে চায়ের কাপে চুমুকের ছবি পোস্ট করেছিলেন সাংসদ। সেনিয়ে বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। আর এবার খোদ দেশের হয়ে প্রচারেও বিরত ইউসুফ।
