সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা জমার ক্ষেত্রে বরাবরের মতো প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলা । যদিও কেন্দ্র এখনও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিভিন্ন রাজ্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে বরাবরের এবারও রাজ্যের পারফরম্যানস বা অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যের জেলাগুলির নিরিখে হুগলি নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করেছে। হুগলির ডাকঘরগুলিতে জমার পরিমাণ এতটাই বেশি হয়েছে যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ শতাংশ আদায় সম্ভব হয়েছে।
পিপিএফ, রেকারিং ডিপোজিট, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা এবং মান্থলি ইনকাম স্কিমের মতো জনপ্রিয় সঞ্চয় প্রকল্পগুলি চালায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক।
কমিশনভিত্তিক এজেন্টের মাধ্যমে এগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় ডাকঘর ও ব্যাঙ্কগুলি। রাজ্য সরকার স্বল্প সঞ্চয়খাতে আয়ের নিরিখে নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে টাকা পায়। রাজ্যের বিডিও অফিসগুলি এই প্রকল্পের প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি ব্লকে রয়েছে স্বল্প সঞ্চয় বিভাগের অফিস, যারা প্রকল্পের প্রচারে নামেন ও ডাকঘর এজেন্ট নিয়োগ করেন।
রাজ্য অর্থদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের পোস্ট অফিসগুলিতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১,৮৩,৫০০ কোটি টাকা, যার ৯৯ শতাংশ আদায় হয়েছে। আদায়ের নিরিখে প্রথম স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে আদায় হয়েছে ২৭,৩৭৮ কোটি টাকা। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে মালদহ, মাত্র ২,৪৩৪ কোটি টাকা।
অঙ্কের বিচারে উত্তর ২৪ পরগনা এগিয়ে থাকলেও শতাংশের নিরিখে গত আর্থিক বছরে হুগলির সাফল্য নজর কেড়েছে। বছরভর ধারাবাহিক প্রচারের কারণেই এটা সম্ভব হযেছে বলে জানানো হয়েছে। রাজ্যের স্বল্প সঞ্চয় বিভাগের উদ্যোগে স্থানীয় কর্মী ও অফিসাররা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের সুফল বোঝান। তাঁদের দাবি, এই সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারই হুগলিতে নজরকাড়া সাফল্য এনে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পদস্থ কর্তারা।
