2011 সালের বিশে মে। আজ থেকে চৌদ্দ বছর আগের এই ছবি। দীর্ঘ 34 বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে মহাকরণের অলিন্দে রাজভবন থেকে পায়ে হেঁটে পা রেখেছিলেন বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসে তার স্বাদ আস্বাদন করার সুযোগ পাওয়া। যা একজন রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর একমাত্র লক্ষ্য। মা মাটি মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার করা। আসলে জগদ্দল পাথরের মত এই চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনের অবসান হতে পারে এই বিশ্বাস যখন হারিয়ে যেতে বসেছিল একসময় বাংলার মানুষের মনে। সেই সময় ওই সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি পরা মহিলা বাংলার মানুষের কাছে মসিহা হয়ে উদ্ধারকর্তা হয়ে উঠলেন তিনি বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবাই মনে করলেন ঘাসের গন্ধ মাখা জোড়া ফুল একমাত্র ভরসা তাদের সবার।
এক আকাশ স্বপ্ন দেখা এই বাংলার মানুষজন ওই মহাকরণের অলিন্দে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাওয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কেমন নিজের বড়ো আপনার মনে করলেন। একদম ঠিক ঘরের মেয়ে, ঘরের দিদি, ঘরের অভিভাবিকার মত। যে ফিনফিনে সাদা ধুতি আর পাঞ্জাবি পড়া লাল পার্টির নেতাদের আশপাশে ভিড়তে পারতো না সাধারণ মানুষজন। তারাই তো সেই সব সাধারণ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো কেমন করে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো তাদের দিদিকে দেখে। জোড়াফুলের এই নতুন প্রতীককে দেখে। সবাই ভাবলো যাক এই বার তাহলে সব সমস্যার সমাধান হবে এক নিমেষে এক মিনিটে। একদম ম্যাজিকের মত কাজ করবে দিদির টোটকা। সব রাতারাতি ভোল বদলে যাবে এই বঙ্গে।
আজ সেই বিশে মে। চৌদ্দ বছর পার হয়েছে দেখতে দেখতে। রাজ্য এখন জোর হাওয়া বইছে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, চাকরি বিক্রি সব জায়গায় তৃণমূলের মাৎস্যন্যায় আর আদি আর নব্য তৃণমূলের দড়ি টানাটানি। যদিও সেই সব নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয় কালীঘাট আর ক্যামাক স্ট্রীট। এইসব ছোটো ব্যাপার নিয়ে মাথা দেবার সময় নেই মা মাটি মানুষের সরকার গড়া সেই বিখ্যাত কারিগর এর। যিনি আজও সবার দিদি হয়েই আমাদের সামনে ঘুরে বেড়ান। এক নিমেষে সমস্যার সমাধান করেন তুড়ি মেরে।কিন্তু না ক্ষমতা দখলের, কুর্শি দখলের সেই ভোট যা আপাতত একবছর পর হবে এই রাজ্যে। যেখানকার ভোট হোক রাজ্য বা কেন্দ্র রাজনীতির কারবারিরা ঠিক সময়ে বুঝে জেগে ওঠেন। কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করা লোকজন ফন্দি করেন রাজ্য তাদের ক্ষমতার বীজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে কোনো উপায়ে না হলে যে তাঁদের মান রক্ষা হবে না কিছুতেই। আর রাজ্য ক্ষমতায় থাকা দল ফন্দি করেন কি করে বেগ দেওয়া যায় দিল্লির মসনদে বসা লোকজনদের নানান ভাবে। এই দড়ি টানাটানির খেলায় আমজনতা একদম গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই নয়।
যাই হোক সাধারণ মানুষদের গিনিপিগ বানিয়েই তো এই রাজনীতির কারবারিদের কাজকারবার। সে ধর্মের দোহাই দিয়ে হোক বা মেহনতী মানুষের, কৃষকদের শ্রমিকদের স্বপ্ন দেখিয়ে হোক আর কিছু টাকা ভাতা দিয়ে হোক। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে কোনো মুল্যে স্বপ্ন বেচো আর নিজেরা ক্ষমতার অধিকারী হয়ে তার স্বাদ আস্বাদন করো ঠিক একদম গরমকালে পাকা ল্যাংড়া আম চুষে চুষে খাবার মত। এর থেকে ভালো উপায় আর কি হতে পারে বলুন।
যাই হোক সাধারণ মানুষ আমি আমার নিজের মনে হলো প্রায় চৌদ্দ বছর আগের সেই একযুগ আগের স্বপ্ন দেখার মুহূর্তকে দেখে মনে হলো কিছু কথা লিখি আমি। সাদা জীবনের একদম সাদা মাঠা কিছু কথা। যা লিপিবদ্ধ করলাম। আপনারা ভালো থাকবেন সবসময়। তবে দিনে রাতে স্বপ্ন কম দেখবেন। তাহলে সুস্থ থাকবেন না হলে বিপদ। রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া স্বপ্ন পূরণ না হলে সেদিন মোহভঙ্গ হবে আর কষ্ট পেতে হবে। আজ এই বঙ্গের ভাতা নির্ভর মানুষজন নিশ্চয়ই মা মাটি মানুষের সরকার এর কথা ভেবে স্বপ্ন কম দেখেন। জয় জগন্নাথ। জয় মা মাটি মানুষের জয়।
