আমেরিকা বলছে আলোচনার ‘অসাধারণ’ অগ্রগতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পথ খুলছে। কিন্তু রাশিয়ার তরফে এখনও তেমন কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই, এই দ্বিমুখী বার্তায় ফের ধোঁয়াশায় ইউক্রেন যুদ্ধ।
ব্রিটিশ সংবাদ সূত্র জানাচ্ছে, সোমবার ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ ঘিরে জেগেছিল অনেক প্রত্যাশা। দুই নেতা প্রায় দু’ঘণ্টা কথা বলেন। ট্রাম্প তাঁর Truth Social পোস্টে দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন ‘অচিরেই’ শান্তি আলোচনা শুরু করতে চলেছে, এবং যুদ্ধ থামানোর সম্ভাবনা প্রবল। তিনি এমনকি ভ্যাটিকানকে আলোচনার মঞ্চ হিসেবে প্রস্তাব করেন।
কিন্তু ব্রিটিশ সংবাদ সূত্রের প্রতিবেদন বলছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩০ দিনের মার্কিন প্রস্তাবিত নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও সম্মতি দেননি। বরং তিনি বলেন, শান্তির পথে এগোতে গেলে যুদ্ধের মূল কারণ খুঁজে সমাধান করতে হবে।
এই মূল কারণ মানে রাশিয়ার সেই পুরনো দাবি, ইউক্রেনকে ‘ডিনাজিফাই’ করতে হবে, সামরিক শক্তি কমাতে হবে এবং পশ্চিমা সহায়তা থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে হবে। কার্যত, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
ইউক্রেন ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানান, আমরা প্রস্তুত, কিন্তু আত্মসমর্পণ নয়। যদি রাশিয়া অনড় থাকে, তবে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়া উচিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প একদিকে ‘শান্তির বার্তা’ দিচ্ছেন, অন্যদিকে পুতিনের প্রতি কোনও কড়া বার্তা দিচ্ছেন না। এর মধ্যে ইউরোপীয় নেতারা আবারও একত্র হয়ে ট্রাম্পকে রাশিয়ার উপর চাপ বজায় রাখতে বলছেন।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, শান্তির টেবিলে কি সত্যিই কেউ বসতে চায়? নাকি কূটনৈতিক নাটক চলছে, যেখানে প্রত্যেকে শুধু নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে ব্যস্ত?
