কার্ডের লেখা- অপারেশন সিঁদুর নিয়ে প্রশ্ন তোলা অধ্যাপককে জামিন সুপ্রিম কোর্টের
ফেসবুক ক্যাপশন- অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও অধ্যাপকের বিরুদ্ধে SIT তদন্ত
Professor Ali: অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত পোস্ট মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন হরিয়ানার অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদ। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল মামলার শুনানি। যদিও তদন্তের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত। গত রবিবার ১৮ মে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ওই অধ্যাপক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি যুব মোর্চার এক সদস্য। হরিয়ানার রাজ্য মহিলা কমিশনের তরফে নোটিসও দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
তবে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এনকে সিং-এর বেঞ্চ আলির মন্তব্যের সময়কাল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। আলির মন্তব্যকে ‘ডগ হুইসলিং’ অর্থাৎ গোপনে বার্তা দিয়ে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন বিচারপতিরা। অধ্যাপকের মন্তব্য অপমানজনক ও অস্বস্তিসূচক ছিল বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের। আলির আইনজীবী কপিল সিব্বলকে আদালত স্পষ্টতই বলে, বাক স্বাধীনতার অধিকার আলাদা কথা। অধ্যাপক যা বলেছেন, তাঁকে আইনের ভাষায় ‘ডগ হুইসলিং’ বলা হয়।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “দেশে যখন এতকিছু ঘটনা একসঙ্গে ঘটছে, সেসময় অধ্যাপকের এরকম মন্তব্য অনেকের কাছেই অপমানজনক ও অবমাননাকর। উনি শিক্ষিত ব্যক্তি। ওঁনার কাছে শব্দ কম পড়েছিল, এটা অন্তত বলা যাবে না।” এদিন পাশাপাশি অধ্যাপক আলিকে জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত অন্য কোনও পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতেও নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। অধ্যাপকের পাসপোর্টও জমা রাখতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তবে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে সিট গঠনের নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। হরিয়ানার ডিজিপিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিশেষ তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন আইজি পদমর্যাদার এক অফিসার। এছাড়াও এসপি পদমর্যাদার এক মহিলা অফিসার রাখতে হবে। তবে তিনি হরিয়ানা বা দিল্লি পুলিশের কোনও আধিকারিক হতে পারবেন না।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ফেসবুকে বিতর্কিত ওই পোস্ট করেন হরিয়ানার সোনপতের অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রধান বছর ৪২ এর অধ্যাপক আলি। পোস্টে লেখেন, “অনেক ডানপন্থী কর্নেল সোফিয়া কুরেশির প্রশংসা করছেন। সেটা ভালো দিক। তবে তাঁরা যদি একই ভাবে ঘৃণার রাজনীতির শিকার মুসলিম নাগরিকদেরও নিরাপত্তা দাবি করতেন। দুই মহিলা সেনাকে এ ভাবে প্রথম সারিতে তুলে আনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই একই রকম হওয়া বাঞ্ছনীয়। না হলে তা ভণ্ডামি।”
