National Herald Case: ন্যাশনাল হেরাল্ড দুর্নীতি মামলায় আরও বিপাকে কংগ্রেস। দুর্নীতির ১৪২ কোটি টাকা খোদ সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী আত্মসাৎ করেছেন বলে আদালতে দাবি ইডির। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে বুধবার মামলার শুনানিতে এমনই দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। ইতিমধ্যেই দুর্নীতি মামলায় সনিয়া, রাহুল ও কংগ্রেস নেতা স্যাম পিত্রোদার বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেছে ইডি।
ইডির তরফে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু। তিনি জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ন্যাশনাল হেরাল্ড দুর্নীতি মামলায় ৭৫১.৯ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু হয়। তার আগে পর্যন্ত দুর্নীতির টাকা অভিযুক্তরা আত্মসাৎ করেছেন বলে বিস্ফোরক দাবি অতিরিক্ত এসজির। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ওই টাকা পেয়েছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া ও তাঁর পুত্র রাহুল।
ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থে দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যবহারের অভিযোগ কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। গান্ধী পরিবারের পাশাপাশি দুর্নীতিতে স্যাম পিত্রোদা, সুমন দুবে ও অন্যান্য অভিযুক্তদেরও যোগ মিলেছে বলে দাবি ইডির। এর আগে ইডি অভিযোগ করেছিল, ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তরে আর্থিক তছরুপের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন কংগ্রেসের সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী।
গত মাসে ন্যাশনাল হেরাল্ড দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তছরুপের একাধিক ধারায় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ইডি। চার্জশিটে প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর। দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। ২০১৭ সালে আয়কর দফতরের একটি নির্দেশিকার উপর ভিত্তি করে এপ্রিলে চার্জশিট গঠন করে ইডি।
ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। অ্যাসোসিয়েট জার্নালস লিমিটেড বা AJL ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা প্রকাশের দায়িত্বে ছিল। ২০০৮ সালে এই সংস্থা আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হলে সনিয়া ও রাহুলের মালিকানাধীন ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থা ২০১১ সালে ন্যাশনাল হেরাল্ড, কোয়াম-ই-আওয়াজ, এবং নবজীবন নামে তিনটি সংবাদপত্র অধিগ্রহণ করে। ২০১২ সালে বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অভিযোগ করেন, ওই অধিগ্রহণে কারচুপি হয়েছে। মাত্র ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এজিএলের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কংগ্রেস ভোগ করেছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতা।
