Waqf Hearing: ওয়াকফ আসলে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। ইসলাম ধর্মের কোনও অপরিহার্য অংশ নয়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে জানাল কেন্দ্র। কেন্দ্রের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। মঙ্গলবারের পর বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ মামলার ফের শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহর বেঞ্চে।
কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্টতই সওয়াল করেন, ওয়াকফ যদিও একটি ইসলামিক ধারণা। কিন্তু ইসলাম ধর্মের মৌলিক ধর্মীয় অনুশীলন রূপে তা গণ্য হয় না। কাজেই ভারতের সংবিধানের অধীনে মৌলিক অধিকার হিসেবে তা দাবি করা যায় না। তিনি আরও বলেন, দান সব ধর্মেই একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। হিন্দুধর্মে “দান” -এর মতো খ্রিস্টধর্ম ও শিখ ধর্মেও একই রীতি রয়েছে।
ওয়াকফ শুনানিতে কেন্দ্রের বক্তব্য শুনছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন ওয়াকফ সংশোধনী আইনের পক্ষে কেন্দ্র আরও সওয়াল করে জানায়, ওয়াকফ সংশোধনী আইন কেবল ওয়াকফ সম্পত্তির পরিচালনার ধর্মনিরপেক্ষ দিকগুলি নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্মীয় কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও দাবি, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের সংখ্যা খুবই সীমিত। যার জেরে মুসলিমদের ধর্মীয় কার্যকলাপে এর প্রভাব পড়ূবে না।
‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ প্রথা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টকে আপত্তির কথা জানায় কেন্দ্র। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করার যে রেওয়াজ রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এদিন কেন্দ্র স্পষ্টতই জানায়, ওয়াকফ বাই ইউজার প্রথা মৌলিক অধিকার হতে পারে না। সরকারি জমির উপর মালিকানার অধিকার কারও নেই। তুষার মেহতা বলেন, “সুপ্রিম কোর্টেরই রায় বলেছে, ওয়াকফের নামে ঘোষিত সরকারি সম্পত্তি প্রয়োজনে সরকার ফিরিয়ে নিতে পারে।”
ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা সম্পূর্ণ ধর্মনিরেপক্ষ বলেও সুপ্রিম কোর্টে জানায় কেন্দ্র। মঙ্গলবার মামলাকারীদের আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি করেছিলেন, ওয়াকফ বোর্ড ধর্মনিরপেক্ষ নয়। বুধবার শুনানিতে তারই বিরোধিতা কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার। পাশাপাশি এদিন নতুন আইনে কী কী সুবিধা রয়েছে তা বোঝানোর চেষ্টাও করেন মেহতা।
