ওপারের রহিম এপারে রাম, হাতে বাংলাদেশী পাসপোর্ট পকেটে ভারতের ভোটার কার্ড, দিশেহারা কমিশন
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ওপারের রহিম নাম বদলেই কি রাম হয়েছে এপারে? এই প্রশ্নই এখন সব থেকে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশন সূত্রে খবর, Foreigners regional registration office থেকে প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য চিঠি আসছে যাদের নামে এদেশের ভোটার কার্ড রয়েছে। পাসপোর্ট রেজিস্ট্রেশন করতে আসা বাংলাদেশী নাগরিকদের তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই ধরনের ঘটনা যখনই সামনে আসে তখনই সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে সেই তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সংখ্যার নিরিখে একদিন অন্তর একদিন দুই থেকে পাঁচটি করে এ ধরনের অভিযোগ এসে পৌঁছয় বলে সিইও দপ্তর সুত্রে জানা গেছে। অভিযুক্ত বাংলাদেশী নাগরিকদের ভোটার কার্ড অবিলম্বে বাতিল করার আরজি জানিয়ে নিত্যদিন তথ্য পাঠানো হয় আঞ্চলিক ফরেনারস রেজিস্ট্রেশন অফিসের পক্ষ থেকে।
আঞ্চলিক ফরেনারস রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে যে নামগুলি পাঠানো হচ্ছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের। তার কারণ বাংলাদেশে তৈরি হওয়া পাসপোর্টে যে নাম রয়েছে এই দেশে চলে আসার পর ভোটার কার্ডে নাম অন্য হলেও ছবি অনুযায়ী ব্যক্তি একই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর মূলত উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদিয়াসহ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকেই বেশিরভাগ নাম বাদ দেওয়ার চিঠি আসে সিইও দফতরে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল জানিয়েছেন ” নির্বাচন কমিশনের আইন এবং নিয়ম অনুযায়ী ইআরও এই ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাই সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।” জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত গত এক মাসে প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়ান আর কি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক ফরেনার রেজিস্ট্রেশন অফিসের পক্ষ থেকে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবকিছু খতিয়ে দেখতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তির কোনও অস্তিত্বই পাওয়া যাচ্ছে না ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটতে হচ্ছে। ভুয়ো ভোটার বলে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীরা যে গলা ফাটিয়ে আসছিল দেরীতে হলেও এবার তা যেন অনেকটাই দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর মনোজ আগরওয়াল সব অভিযোগগুলোকে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলার নির্বাচনী আধিকারিক এবং ই আর ও’দের। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে এই দেশে চলে আসার পর কিভাবে ভারতের ভোটার কার্ড তৈরি করছেন তারা সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার কারণ ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গেলে যে সমস্ত নথি ও তথ্যের প্রয়োজন হয় তা এই দেশের একজন নাগরিক না হয়েও কিভাবে তাঁরা এদেশের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সক্ষম হচ্ছেন এই প্রশ্নই এখন কমিশনের অন্দরে যেমন ঘুরপাক খাচ্ছে তেমনই বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশনের কাছে নতুন করে এখন প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মুহূর্তে তাহলে রাজ্যের ভোটার তালিকায় এই ধরনের ভোটার আরও কত সংখ্যায় ঢুকে আছে। তবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন লিখিতভাবে যদি কেউ তাঁর কাছে অভিযোগ জানান তাহলে তৎক্ষণাৎ তিনি পদক্ষেপ করবেন। কিন্তু ওপারের রহিম যে এপারে এসে কিভাবে রাম হয়ে যাচ্ছে এটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সকলের কাছে।
