বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত বলে জানিয়ে দিলেন সেদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।বুধবার ঢাকার সেনানিবাসে অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দি ফিনান্সিয়াল টাইমস প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে।
হাসিনা পরবর্তী অস্থির বাংলাদেশে নির্বাচন কবে হবে সেটাই এখন অতি গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন। বারবার দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে চলেছে বিএনপি।কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বারবার সংস্কার কর্মসূচী ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে তা পিছিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ খালেদা জিয়ার দলের।এর আগে হয় ২০২৪-এর ডিসেম্বরে না হলে আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বড় ধরণের সংস্কার করতে হলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে হতে পারে। আর ছোট আকারের সংস্কার হলে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরে।
যদিও তা নিয়ে মোটেই খুশি নয় বিএনপি নেতৃত্ব।সংস্কারের জন্য ডিসেম্বরের পরে নির্বাচনের আয়োজনের বিরোধী বিএনপি।শুধু খালেদা জিয়ার দল নয়, নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কদিন আগেই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বিএনপি এর প্রতিবাদ করে বলেছে যে অনেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও চাইলেও তা সম্ভব নয়।তাঁর দাবি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৈরি হয় শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচনের জন্য।এসব বলার মানে, জাতীয় নির্বাচনকে দেরী করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার এবং ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ানোর দাবিতে আন্দোলন করে সরকারের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে বিএনপি।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট হওয়া নিয়ে সেনাপ্রধানের মতকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু নির্বাচনই নয়, এদিন করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দর, সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানান সেনাপ্রধান। সংস্কার বিষয়ে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি বা তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউনূস প্রশাসন।বৃহৎ প্রতিপক্ষ হিসেবে এতদিন রাজ করা একটি দল প্রায় মুছে যাওয়ায় বিরোধীরা খুশি হলেও যত দিন যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রকট হচ্ছে বিভিন্ন দলের দ্বন্দ্ব। অন্তবর্তী সরকারের পক্ষে থাকা দল হিসেবে পরিচিত এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপির নাম না করেই তোপ দেগে বলেছে যে, একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে যে ম্যাচিউরিটি জনগণ তাদের কাছ থেকে আশা করে, তারা সেটা দেখাচ্ছে না। তার অভিযোগ নানাভাবে দেশে একটা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
তবে এবার এই অস্থিতিশীলতার পরিবেশ শক্ত হাতে ধরার কথাই ভাবছেন সেনাপ্রধান।‘মব ভায়োলেন্স’ প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার জানিয়েছেন যে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে—উচ্ছৃঙ্খলতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। পাশাপাশি রাখাইনে মানবিক করিডোর বিষয়ে তিনি জানান, এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারকেই নিতে হবে এবং তা হবে জাতীয় স্বার্থে।এদিন তিনি জানিয়েছেন সেনাবাহিনী কখনোই এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে না যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। কাজেই দ্রুত নির্বাচন করে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার যে বার্তা সেনাপ্রধান দিলেন তা অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার কতটা মানবে সেটাই এখন দেখার।
Leave a comment
Leave a comment
