অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দেশের মধ্যে ঐক্যের বাতাবরণ তৈরি করার কাজ করছে বিজেপি, সেখানে দলেরই একের পর এক সাংসদের মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়। অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রের সরকারকে। এমনকী বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। সেখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে নেতাদের সংযম রাখার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে নেতাদের দেওয়া অপ্রয়োজনীয় বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের খবর।
আজ রবিবার বিজেপি এবং জোটে থাকা সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই বৈঠকে একাধিক ইস্যুতে আলোচনা হয় বলে খবর। তবে ওই বৈঠকে নেতাদের দেওয়া অবাঞ্ছিত বক্তব্য নিয়ে কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সূত্রের খবর, প্রকাশ্যে অপ্রয়োজনীয় বক্তব্য রাখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এমনকী আগামিদিনে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশও দিয়েছেন। প্রয়োজনে মন্তব্য থেকেও বিরত থাকার বার্তাও এনডিএ নেতাদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলে খবর।
বলে রাখা প্রয়োজন, পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুরের পরেই কর্নেল সোফিয়া সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয় শাহ। ‘সন্ত্রাসবাদীদের বোন’ বলে অ্যাখা দেন। খোদ বিজেপি নেতার এহেন মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালতের ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়। এমনকী মধ্যপ্রদেশ সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চায় আদালত।
আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রামচন্দ্র জ্যাংরা। তিনি বলেন, ‘মৃত পর্যটকদের বিধবা স্ত্রীরা স্বামীর প্রাণের জন্য কাতর আর্জি না জানিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারতেন’। তাঁর কথায়, ‘আমি মনে করি পর্যটকদের বিধবা স্ত্রীদের লড়াই করা উচিৎ ছিল। তাহলে ক্ষতি কম হতো’। আর এহেন মন্তব্যের তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী নেতৃত্ব। আর এরপরেই মোদীর এহেন বার্তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
