প্রাণে বাঁচলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদা স্নেহাশিস এবং তাঁর স্ত্রী অর্পিতা। ছুটি কাটাতে স্ত্রীকে নিয়ে পুরী বেড়াতে গিয়েছিলেন সৌরভের দাদা। আর সেখানে উত্তাল সমুদ্রে বিপদে পড়েন দম্পতি। ঢেউয়ের ধাক্কায় উল্টে যায় স্পিডবোট। বড় বিপদের সম্ভাবনা ছিল। যদিও কোনও রকমে দু’জনেই রক্ষা পান। উত্তাল সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁদের।
ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাতে দেখা যাচ্ছে, ঘটনার পরেই লাইফগার্ড সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। পাশে উল্টে যাওয়া স্পিডবোটটিকেও দেখা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, লাইফগার্ডের সদস্যরা সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করেছেন। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিএবি সভাপতি স্নেহাশিসের স্ত্রী অর্পিতা স্পিডবোটের বহন ক্ষমতা এবং পরিচালকদের অপেশাদারিত্বের মনোভাবকে একহাত নিয়েছেন। জানিয়েছেন, কম যাত্রী থাকায় ওই স্পিডবোটের ওজন ছিল কম। ফলে উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের ধাক্কা সামলাতে না পেরে সেটি সহজেই উলটে যায়। তাঁর দাবি, ওই নৌকায় ১০ জন যাত্রীর জায়গা থাকলেও টাকার লোভে মাত্র তিন থেকে চার জন যাত্রী নেওয়া হয়। তাঁরা যে নৌকায় উঠেছিলেন সেটি ছিল সে দিনের শেষ বোট।
সংবাদমাধ্যমে অর্পিতা আরও জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। আর তা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অপারেটররা তাঁদের বলেন, ‘সব ঠিক আছে’। কিন্তু যে মুহূর্তে স্পিডবোটে চেপে তাঁরা সমুদ্রে নামেন, সেই মুহূর্তে একটা বড় ঢেউ ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে বোটটি উল্টে যায়। অর্পিতার বক্তব্য, নৌকায় ১০ জন যাত্রী থাকলে এ ভাবে উল্টে যেত না।
ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত সৌরভের দাদা এবং বৌদি। রাতে ঘুম হচ্ছে না। এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও হয়নি। বোট অপারেটরদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। একই সঙ্গে ওড়িশা প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার আবেদনও করেছেন তাঁরা। যে হেতু পুরীর সমুদ্র অনেক বেশি উত্তাল, তাই এই ধরনের ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যাপারে আরও বেশি সাবধান হওয়া উচিত ওড়িশা সরকারের। কলকাতায় ফিরে এ নিয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকেও চিঠি লিখবেন বলে জানিয়েছেন অর্পিতা।
