আরজি কর আন্দোলনের মুখ হওয়ায় কি এবার প্রতিশোধের মুখে চিকিৎসক ? ন্যায্য বদলিতেও স্বাস্থ্য ভবনের বিরুদ্ধে কারসাজির সন্দেহ প্রকাশ।।।
আরজিকরে ঘটে যাওয়া নৃশংস সেই ঘটনার পর যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল তার অন্যতম মুখ ছিলেন কিঞ্জল নন্দ, অনিকেত মাহাতোরা। তাদের সঙ্গেই আরজি কর কাণ্ডে বারংবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেখা গিয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার্স ফ্রন্ট (WBJDF) এর সদস্য, কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক দেবাশিস হালদার কে। নিজেদের দাবি-দাওয়া সহ অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গেই প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তিনিও। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের দাবি আদায় কিঞ্জল অনিকেত দের সঙ্গেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে দেখা গিয়েছিল এই চিকিৎসককেও ।
তবে এবার আরজিকর আন্দোলনের প্রতিবাদের জেরেই প্রতিশোধ হিসেবে স্বাস্থ্য ভবন তার কর্মস্থলে প্রতিহিংসা বসত বদলি করেছে, এমন সন্দেহ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য ভবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তিনি। নিজের যোগ্যতায় পাওয়া কর্মস্থল, স্বাস্থ্য ভবনের ফাইনাল নোটিশ এ বদলি হল প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়েছেন চিকিৎসক দেবাশীষ হালদার সহ একাধিক চিকিৎসক সংগঠন। ইতিমধ্যেই সিনিয়র চিকিৎসকেদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম (WBDF) এই ঘটনার প্রতিবাদ করে সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন তারা। এছড়া জুনিয়র চিকিৎসকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার্স ফ্রন্ট (WBJDF) এর সদস্যরা আগামীকাল সকাল ১১ টায় স্বাস্থ্য ভবন যাওয়ার ডাক দিয়েছে। এমন ঘটনায় রীতিমতো হতবাক সকলে।
সিনিয়র চিকিৎসক দেবাশীষ হালদারের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধি বিক্রান্ত রায়। তিনি বলেন, আন্দোলন পরবর্তী সময়ে আরআইও মেডিকেল কলেজে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবেই তিনি কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে রুরাল পোস্টিং এর জন্য, ফাইনাল এমডি (MD) এর প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে কাউন্সিলিং হয়। সেখানে দেবাশীষবাবুর র্যাঙ্ক ছিল ২৪। এরপর নিয়ম মেনে, তিনি হাওড়া জেলা হাসপাতাল কে নির্বাচন করেন তার পরবর্তী কর্মস্থল হিসেবে। ওই হাসপাতালেও পদ ফাঁকা থাকায় তা, দেবাশিষ হালদার কেই দেওয়া হয়। সেই সময় প্রায় ৬৭৮ জনের কাউন্সিলিং হয়েছিল। এদিন স্বাস্থ্য ভবনের তরফে নোটিসে জানানো হয় সাত দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য। প্রকাশ্যে আসা নোটিসেই বিষয়টি নজরে আসে ওই চিকিৎসকের। তিনি দেখেন, তার নামের পাশে হাওড়া জেলা হাসপাতালের পরিবর্তে রয়েছে মালদার গাজোল হাসপাতালের নাম। বাকি কোন চিকিৎসকের ক্ষেত্রে পোস্টিং অর্ডার নিয়ে কোন রকম সমস্যা না থাকলেও, একমাত্র দেবাশীষ হালদার এর নির্বাচন করা কর্মস্থল বদলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এখানেই শেষ নয়, অতীতে প্রকাশ করা ভ্যাকেন্সি লিস্ট খুজে দেখা যায় যে গাজোল হাসপাতালের কথা বলা হচ্ছে সেখানে কোন ফাঁকা পথ নেই। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তবে কি আরজি কর আন্দোলনের মুখ হওয়ার জন্যই প্রতিশোধের কারণেই কি এই বদলিতে অদলা বদলি চিকিৎসকের কর্মস্থল নিয়ে! বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক দেবাশিস হালদার। তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে, প্রয়োজনে আইনের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসকের এমন বদলি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিহিংসার অনুমান করেই, বিষয়টির নিন্দা করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম (WBDF)। অ্যানেস্থেসিওলজির সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ দেবাশিস হালদারকে আরজিকর আন্দোলনের অন্যতম মুখ হওয়ায় প্রতিশোধের কারণেই ন্যায্য কর্মস্থল থেকে বঞ্চিত করে, প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালে শাস্তিস্বরূপ বদলি করা হচ্ছে। যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অনেকে মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে আদালত অবমাননার বিষয়টিও উঠে আসছে বলে মনে করছে চিকিৎসক সংগঠন। বিষয়টি অবিলম্বে স্বাস্থ্য দপ্তরকে খতিয়ে দেখার আবেদনও জানানো হয়েছে। না হলে, পরবর্তীতে এই ধরনের প্রতিশোধ মূলক আচরণের জন্য আবারও আন্দোলন সংগঠিত হতে পারে চিকিৎসকদের তরফে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
SPECIAL NOTE :- AUDIO ভালো করে শুনে কাটবে।
