আইএসআই’য়ের সঙ্গে যোগ আছে জেনেও পাকিস্তানের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন জ্যোতি মালহোত্রা। আর তাতে ভীত ছিলেন না তিনি। গত কয়েকদিন আগেই ভারতে বসে চরবৃত্তি করার অভিযোগে হরিয়ানার ইউটিউরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর এরপর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। শুধু তাই নয়, ধৃত জ্যোতির মোবাইল সহ অন্যান্য ডিভাইসগুলিকেও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
সেই ডিভাইসগুলি পরীক্ষা করে আরও বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, ধৃত ইউটিউবারের সঙ্গে পাক গোয়েন্দা সংস্থার চার এজেন্টের যোগাযোগ ছিল। তাঁদের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে সে কথাও বলত, তবে এই চারজনের মধ্যে দিল্লিতে পাক হাইকমিশনে কর্মরত দানিশও যে ছিল তা ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন। যদিও বাকিদের বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্তকারীরা খোঁজখবর চালাচ্ছেন বলেও জানা যাচ্ছে।
গ্রেফতারের পরেই জ্যোতি মালহোত্রার সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইসগুলিকে ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ফোন এবং তাঁর ল্যাপটপ। তদন্তকারীরা বলছেন, হোয়াটসঅ্যাপ সহ একাধিক অ্যাপকে ব্যবহার করে ধৃত এই ইউটিউবার সীমান্তের ওপারে যোগাযোগ রাখতেন। তবে সমস্ত তথ্যই ডিলিট করে দেওয়া হয়। যদিও সূত্র বলছে, ডিলিট করে দেওয়া বিশাল একটা ‘তথ্যভান্ডার’ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আর সেটাই এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, জ্যোতি মালহোত্রা ভালোভাবেই জানতেন যে তিনি আইএসআই আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। আর তাতে কোনও ভাবেই ভীত ছিলেন না। বরং ‘ভয়কে জয়’ করেই দিনের পর দিন ওই সমস্ত পাক আধিকারিকদের সঙ্গে জ্যোতি যোগাযোগ রেখে গিয়েছিলেন বলেও জানা যাচ্ছে তদন্তকারী সূত্রে।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের মাটিতে জ্যোতি কীভাবে ‘ভিআইপি ট্রিটমেন্ট’ পেতেন সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে সে দেশে জ্যোতিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে পাক পুলিশ। আর সেই সমস্ত পুলিশের আধিকারিকের হাতে একে-৪৭ এর মতো আধুনিক অস্ত্রও দেখা যাচ্ছে। আর এরপরেই এদিনের উদ্ধার হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
