সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
উত্তরবঙ্গে তো বটেই দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বলয়ের জেরে ধেয়ে আসছে দুর্যোগ বলে আগেই জানিয়ছে আবহাওয়া দপ্তর। আর এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশ কয়েক দফা নির্দেশ জেলায় জেলায় পাঠিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মূলত পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বন্যাপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে জেলা প্রশাসন গুলিকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। রাজ্য প্রশাসনের এই নির্দেশিকা পর্যায়ক্রমে ব্লক স্তরে পৌঁছে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনও। ঝাড়খন্ডের আপার ক্যাচমীন্ট এলাকায় যদি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ে তাহলে ডিভিসি-র ছাড়া জলে এই জেলাগুলির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। সে কথা মাথায় রেখে ডিভিসির সঙ্গে সংযোগ রক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কাজ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনগুলির কন্ট্রোল রুম সহ বন্যাপ্রবণ এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্লক প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমগুলিকেও সর্বক্ষণের জন্য তৎপর থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে কি কি করা উচিত বা কি করা উচিত নয় এই মর্মে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার কাজ পঞ্চায়েত স্তরে শুরু করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় বাইরে না বেরিয়ে গাছের তলায় আশ্রয় না নিয়ে অথবা বিদ্যুতের খুঁটি এড়িয়ে চলার পরামর্শের পাশাপাশি কোথাও জল জমলে সেই এলাকায় ছিঁড়ে থাকা বিদ্যুতের তার স্পর্শ না করার মতো সতর্কবার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে প্রচারাভিযানের কাজ চলছে। একইসঙ্গে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ দপ্তরকে। দুর্যোগের জেরে কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙলে বা বৈদ্যুতিক তার ঝুলে গেলে দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পুরসভা এলাকাগুলিতে দ্রুত ফ্লেক্স ব্যানার বা এই ধরনের জিনিস খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য পুর দপ্তর। বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ত্রাণ শিবির প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। ত্রাণ বিলির কাজ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর জেলাগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে। পাশাপাশি পশুখাদ্য মজুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরকে। গাছ কাটার যন্ত্র, জল বের করার পাম্প, বালি ও বস্তা মজুত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য তথা জেলা প্রশাসন। দুর্যোগ চলাকালীন ভেঙে পড়া গাছ কেটে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বন দপ্তরের কর্মীদেরও। অতিবৃষ্টি বা ভারী বর্ষণের কারণে চাষের কাজে বা মাঠের ফসলে কি ক্ষতি হতে পারে বা মাঠের ফসল কেটে নেওয়ার ব্যাপারে চাষীদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কৃষি এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিকরা কথাবার্তা বলেছেন। এই পরিস্থিতিতে চাষী ভাইদের কি করা উচিত তা নিয়ে পরামর্শ দেয়ার ও কাজ চলছে। দুর্যোগ কালীন সময়ে জলের পাচ পানীয় জলের ট্যাঙ্ক মজুদ রাখা এবং পানীয় জলপরীষেবা স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের কর্মীদেরও। সর্বোপরি ভারী বর্ষণ বা অতিবৃষ্টির কারণে নদীর জল বেড়ে যাওয়ার ফলে নদী বাঁধ বা সেচ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। নদী বাঁধ বা শেজ বাঁধগুলির নজরদারি রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি এগুলিকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বালির বস্তা সহ যা যা সরঞ্জাম প্রয়োজন তা আগাম সংশ্লিষ্ট এলাকায় মজুদ রাখতে স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সেচ দপ্তরের কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে অবিলম্বে নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। বৃষ্টিপাতের জেরে বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি হলে দ্রুত মেরামতি বা সংস্কারের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন গুলিকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বন্যা প্রবণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করে সতর্কতা প্রচার চালানোর কাজ শুরু হয়েছে। মাটির বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আগাম ছড়ানোর মতো যাবতীয় ব্যবস্থা তৎপরতার সাথে কলার কাজ চলছে। দুর্যোগ শুরুর আগেই পঞ্চায়ে ত এলাকায় ত্রাণ শিবির তৈরীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সবমিলিয়ে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যে যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশংকা রয়েছে তার মোকাবিলায় এবং এই দুর্যোগ থেকে প্রাণহানি ও সম্পদ রক্ষায় প্রস্তুত প্রশাসন।
