গুরুদক্ষিণা হিসেবে ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর’ চেয়ে বসলেন গুরুদেব! এমন তেমন শিষ্য নন অবশ্য। তিনি, ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূটের তুলসিপীঠ আশ্রমে জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্যের কাছে দীক্ষা নিলেন দেশের সেনাপ্রধান। গুরুদক্ষিণা হিসেবে জানিয়ে এলেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অংশ হবে।
সদ্য ‘পদ্মবিভূষণ’ পাওয়া গুরুর থেকে ‘রামমন্ত্র’ গ্রহণ করেন সেনাপ্রধান। মন্ত্রের তাৎপর্য হল, সীতা নিজের হাতে এই রামমন্ত্র বজরংবলী হনুমানকে প্রদান করেছিলেন। অতঃপর, লঙ্কা বিজয়। এ দিনের দীক্ষানুষ্ঠান বিশেষ হয়ে উঠল জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্যের দাবি করা গুরুদক্ষিণার কারণে। সেনাপ্রধানকে দীক্ষা দেওয়ার পর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর চেয়ে বসেন নিজের গুরুদক্ষিণা হিসেবে। তিনি জানান, “আমি সেনাপ্রধানের কাছ থেকে দক্ষিণা হিসেবে কিছু চাইনি, তবে আজ চাইছি। আমার দক্ষিণা হোক ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর’। যদি পাকিস্তান ভবিষ্যতে কোনো জঙ্গি হামলা চালায়, তবে তা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।” ‘দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন’-এর দাবি, গুরু জানিয়েছেন, সেনাপ্রধান তাতে সম্মতও হয়েছেন।
আধ্যাত্মিকতা আর সামাজিক বার্তার মেলবন্ধনে এক সাধারন দীক্ষা প্রদানের অনুষ্ঠান বিশেষ হয়ে উঠল। এদিন সদগুরু নেত্র চিকিৎসালয় পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তারপরেই অংশ নেন সদগুরু সেবা সংঘ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায়। সেখানে পদ্মশ্রী ডাঃ বি কে জৈন তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
এ দিনের দীক্ষানুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী গুরু রামভদ্রাচার্যকে একটি স্মারক উপহার দেন। তাঁর সেবামূলক কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই সাধু পুরুষ শুধু ভারতের আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক নন, বরং সামাজিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল মুখও বটে।”
