পহেলগাঁও’য়ে ভয়াবহ হামলার পর একমাস কেটে গিয়েছে! এখনও ভয়াবহ এই জঙ্গি হামলায় দোষীদের ধরা সম্ভব হয়নি। আর এর মধ্যেই ফের একবার প্রকাশ্যে দেখা গেল লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা কাসুরিকে। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সইফুল্লা। তাঁকে পাকিস্তানের মাটিতে এক রাজনৈতিক র্যালিতে দেখা গেল এবার। শুধু তাই নয়, সে দেশের একাধিক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও একমঞ্চে দেখা যায় সইফুল্লাকে। আর এই ঘটনায় আরও একবার পাক প্রশাসন এবং রাজনীতির সঙ্গে যে জঙ্গি যোগ আছে, তা স্পষ্ট।
পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ পাকিস্তানের মাটিতে একটি র্যালির আয়োজন করে। আর সেখানেই প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে দেখা যায় সইফুল্লা কাসুরিকে। একের পর এক ভারত বিরোধী এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখতেও শোনা গিয়েছে তাঁকে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই সভায় সইফুল্লাকে বলতে শোনা যায়, ‘পহেলগাঁও হামলার ঘটনায় আমাকে মাস্টারমাইন্ড হিসাবে বলা হচ্ছে, আর এর ফলে গোটা বিশ্বে আমি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছি’।
শুধু তাই নয়, ‘মুদাসির শহিদে’র নামে পাকিস্তানে রাস্তা এবং হাসপাতাল তৈরির কথাও বলেন তিনি। বলে রাখা প্রয়োজন, ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুর অভিযানে লস্করের এই জঙ্গিনেতার মৃত্যু হয় বলে দাবি। আর সেই মুদাসিরের নামেই এবার সে দেশে রাস্তা এবং হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা লস্কর কমান্ডের। অন্যদিকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই র্যালিতে লস্কর প্রধান হাফিজ সইদের ছেলে তালহা সইদও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। ভারতের মোস্ট ওয়াটেন্ডের তালিকাতেও তালহা রয়েছে।
ওই সভা থেকে তাঁকেও একের পর এক ভারত বিরোধী বক্তব্য রাখতে শোনা যায়। বলে রাখা প্রয়োজন, হাফিজ সইদের ছেলে তালহা গত পাকিস্তানের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও হেরে যায় সে। এবার সেই তালহাকেও প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী বক্তব্য রাখতে শোনা গেল। বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে পর্যটকদের ধর্ম জেনে নৃশংস ভাবে খুন করে জঙ্গিরা। ভয়াবহ এই ঘটনায় ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
আর এই ঘটনায় দ্য রেসিসটেন্স ফোর্স (টিআরএফ) এর নাম সামনে আসে। মূলত পাকিস্তানের লস্করের হয়েই কাশ্মীরের বুকে একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপ চালায় এই সংগঠন। এই সংগঠনের সঙ্গে লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা কাসুরি ওরফে আলিস খালিদের যোগাযোগ আছে বলে দাবি করে তদন্তকারী সংস্থা। সামনে আসে একাধিক নাম। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার তো দূর, নিকেশ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি।
