পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তানে ঢুকে তার জবাব দিয়েছে ভারত।সেই অভিযানে মৃত্যু হয়েছিল কম করে ১০০ জঙ্গির। সেই পাক জঙ্গিদের প্রতি কলম্বিয়া সমবেদনা প্রকাশ করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান শশী থারুর।তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ থারুরের নেতৃত্বে একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থান বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দিতে কলম্বিয়া সফর করছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, শশী থারুর জানিয়েছেন, “কলম্বিয়া সরকারের প্রতিক্রিয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ হয়েছি। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের পর পাকিস্তানে প্রাণহানির জন্য তারা সমবেদনা জানিয়েছে, কিন্তু সন্ত্রাসবাদের শিকার ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি।”
তিনি আরও জানান যে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরীহ নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তান-প্ররোচিত সন্ত্রাসবাদের ভূমিকা রয়েছে—এ বিষয়ে ভারতের কাছে প্রমাণ আছে।তিনি আরও বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে নিরীহদের ওপর নৃশংস জঙ্গি হামলার পরই ভারতের তরফে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। তাঁর বার্তা “আমরা কেবল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছি। কলম্বিয়াকে আমরা এই পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত। কলম্বিয়ার মতো ভারতও দীর্ঘ চার দশক ধরে অসংখ্য সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে,” তিনি যোগ করেন।
পাকিস্তানের চিনা অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে শশী থারুর স্পষ্ট ভাবে বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে বেশ সচেতন যে পাকিস্তানের সমস্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ৮১ শতাংশ সরবরাহ করে চিন। তিনি জানান,“’প্রতিরক্ষা’ এক্ষেত্রে একটি ভদ্র শব্দ, কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের বেশিরভাগই আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। আমাদের বিরোধ সন্ত্রাসের সঙ্গে, তাদের আগ্রাসনের সঙ্গে।”
শশী থারুর এরপর কলম্বিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আমরা কলম্বিয়ার বন্ধুদের বলতে চাই। যারা সন্ত্রাসবাদ ছড়ায় এবং যারা সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করে, তাদের কোনও ভাবেই এক করে দেওয়া যায় না।“ থারুরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল পানামা ও গায়ানা সফরের পর বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ায় পৌঁছান। বোগোতায় থাকাকালীন তারা কলম্বিয়ার কংগ্রেস সদস্য, মন্ত্রী, থিংক ট্যাঙ্ক ও মিডিয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সরফরাজ আহমেদ, তেলুগু দেশম পার্টির জিএম হরিশ বালযোগী, বিজেপির শশাঙ্ক মানি ত্রিপাঠী, ভুবনেশ্বর কলিতা, শিব সেনার মিলিন্দ দেওরা, বিজেপির তেজস্বী সুর্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত তরনজিৎ সিং সান্ধু।
Leave a comment
Leave a comment
