সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের বিরুদ্ধে বিজেপি নেত্রী শাজিয়া ইলমির মানহানির মামলা নিয়ে ফের উত্তাল হাইকোর্ট! পুরো ঘটনার মূল কেন্দ্রে একটি বিতর্কিত ভিডিয়ো আর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। বিজেপি নেত্রী শাজিয়া ইলমির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং অপরপক্ষে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে, ‘অগ্নিপথ প্রকল্প’ নিয়ে একটি টেলিভিশন বিতর্ক থেকে। ওই সময় ইন্ডিয়া টুডে চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারে যোগ দেন বিজেপি নেত্রী শাজিয়া ইলমি। মাঝপথে তিনি বিতর্ক থেকে সরে যান। তাঁর অভিযোগ, তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি নিজের বাড়ি থেকে ভিডিয়ো কলটি বন্ধ করে দেন। পরে সেই ঘটনার একটি আংশিক ভিডিয়ো এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বসেন সাংবাদিক সরদেশাই। ভিডিয়োর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, যশাজিয়া ইলমি শুধুমাত্র বিতর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যাননি, বরং একজন ভিডিয়ো সাংবাদিককে গালিগালাজ করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেই নিয়েই আইনি লড়াই আর বিতর্ক।
সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের পোস্টের ভিত্তিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন শাজিয়া ইলমি। তাঁর অভিযোগ, ভিডিয়োটি তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরে রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি তাঁর অনুমতি ছাড়া তা প্রকাশ করে তাঁর গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজদীপ সরদেশাইয প্রভাবশালী সাংবাদিক হওয়ায়, তাঁর করা মন্তব্য এবং ভিডিয়ো মানুষের কাছে বিকৃতভাবে প্রকাশ পেয়েছে যা মানহানি করে।
গত বছর এই মামলায় রায় দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। তাতে বলা হয়, বিতর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর শাজিয়া ইলমি যখন নিজের বাড়িতে ছিলেন, তখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আওতায় ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর ভিডিয়ো করা বা তা পোস্ট করা একপ্রকার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শামিল। তাই রাজদীপ সরদেশাইকে ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এছাড়াও সাংবাদিকদের গালিগালাজ করার বিষয়ে রাজদীপ সরদেশাইয়ের টুইটের প্রথম অংশ মেনে নেওয়া হলেও, “মাইক ছুঁড়ে ফেলা” কথাটি ভিত্তিহীন বলে জানায় আদালত। এছাড়াও আদালত বলে, তিনি একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক হওয়ার কারণে তার মন্তব্য মানুষের কাছে সত্য হিসেবে প্রভাব বিস্তার করার কারণে, তা কতটা সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
আদালত শাজিয়া ইলমির বিরুদ্ধে জানায়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মামলার সঙ্গে জড়িত নিজের করা দুটি টুইট আদালতের সামনে উপস্থাপন করেননি। আদালত মনে করেন, এটি তথ্য গোপনের সামিল। তাই শাজিয়া ইলমিকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
আদালতের এই রায়ের বিরোধিতা করে এবার দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন রাজদীপ সরদেশাই। তাঁর পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাজীব নায়ার। শুনানিতে আদালত জানায়, গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় মামলাটি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আবার শুনানি হবে। এছাড়াও রাজদীপকে ভিডিয়োটি পেনড্রাইভে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাই আপাতত আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই তাকিয়ে সকলে।
