প্রশাসনিক ভুলে নিরাপরাধ যুবক জামিন পেল ঠিকই, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার এক ব্যক্তি পেল নিঃশর্ত মুক্তি। তেমনি চঞ্চলকর ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদাবাদের নিমকা জেলে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে জেল বিভাগের পাঁচজন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে নিঃশর্তের মুক্তি পাওয়া অভিযুক্ত এখন পলাতক।
ফরিদাবাদের নিমকা জেলে দু’জন বন্দির নাম একই, নীতেশ। শুধু নাম নয়, দু’জনের বাবার নামও এক, রবিন্দর। কিন্তু অপরাধে আকাশ-পাতাল তফাত। একজন বাড়িতে জবরদখলের ও মারপিটের অভিযোগে গ্রেফতার হন। আর অপরজন ২৭ বছর বয়সী নীতেশ পাণ্ডে একজন ৯ বছর বয়সী শিশুকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাবাসে ছিলেন।
রবিবার জেলে এসেছিলেন ২৪ বছরের অপর নীতেশ। তিনি আবার কোনও পদবি ব্যবহার করেন না। বাড়ি দখল ও হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তাই সোমবার জামিন মঞ্জুর করে ফরিদাবাদ কোর্টের মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। আর তখনই ঘটে যায় বিপত্তি। জামিন পাওয়া নীতেশের পরিবর্তে জেল কর্মীরা মুক্তি দিয়ে দেন ধর্ষণে অভিযুক্ত নীতেশ পাণ্ডেকে।
জেল প্রশাসনের দাবি, নিজের পরিচয় গোপন করে নিজেকে অন্য নীতেশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে মুক্তি আদায় করে নেয় নীতেশ পাণ্ডে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর নিমকা জেলের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বিক্রম সিং বলেন, “নীতেশ পাণ্ডের বিরুদ্ধে ভুল পরিচয় দিয়ে মুক্তি পাওয়ার অভিযোগে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।” ফরিদাবাদ সদার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান, ধর্ষণে অভিযুক্ত পলাতক নীতেশকে পাকড়াও করার জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে। শীঘ্রই ফের গ্রেফতার করা হবে। আর জেল সুপার হরেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর পাঁচজন কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জেল সূত্রে জানা গেছে।
