অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ১৫% সময় ভুয়ো খবর প্রতিহত করতেই ব্যয় হয়েছে, জানালেন দেশের প্রতিরক্ষা প্রধান। কে ছড়াচ্ছে, কোথা থেকে ছড়াচ্ছে, আর কিভাবে ছড়াচ্ছে এই তিন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে। ৭ মে শুরু হওয়া অপারেশন সিন্দুরের সময় একাধিক স্তরে লড়াই চলেছে, কিন্তু যার বড় অংশ ছিল চোখে দেখা যায় না এমন এক শত্রুর বিরুদ্ধে ভুয়ো তথ্য।
শনিবার সিঙ্গাপুরে এক আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান জানান, অপারেশন সিন্দুরের সময় ১৫ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে ভুল তথ্য বা ‘ফেক ন্যারেটিভ’ ঠেকাতে। এই তথ্য সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। শুধু সীমান্তে গুলি নয়, এখন যুদ্ধের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে তথ্যের যুদ্ধ।
মে মাসের শুরুতে জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ভারত এই অপারেশন শুরু করে। স্থল, জল, আকাশ, তিন বাহিনীর যৌথ অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বেশ কিছু জঙ্গি ঘাঁটি টার্গেট করা হয়। ভারতীয় সেনা দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি এবং সিস্টেম যেমন আকাশ মিসাইল, ইন্টিগ্রেটেড রাডার ব্যবহার করে সফলভাবে পরিচালনা করে এই মিশন। তবে সমস্যা তৈরি করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুল খবর, যার মাধ্যমে সেনার ভাবমূর্তি ও কৌশলকে টার্গেট করা হয়।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনার একটি আলাদা দল শুধু তথ্য যাচাই এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কাজে নিযুক্ত ছিল। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জানিয়েছেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের ধরণও বদলাচ্ছে। রোবটিক্স ও AI ব্যবহারে সরাসরি প্রাণহানির ঝুঁকি কমলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেখা দিতে পারে।
সবমিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুর শুধু অস্ত্র নয়, তথ্য যুদ্ধেও ভারতীয় প্রতিরক্ষার এক নতুন অধ্যায় রচনা করল।
