অপারেশন সিঁদুর নিয়ে একটি পোস্টে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ। পুণের আইনের ছাত্রীকে হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। বিতর্কিত পোস্টকে ঘিরে কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর তরুণীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর-ও দায়ের করা হয়। ধৃতকে শনিবার আলিপুর কোর্টে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আইনের ছাত্রীর নাম শর্মিষ্ঠা পানোলি। বেশ কয়েকদিন আগে অপারেশন সিঁদুরের প্রশংসা জানিয়ে সেই সংক্রান্ত একটি পোস্টের রিপ্লাইতে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন বলে অভিযোগ। কলকাতা পুলিশের ডিসি (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাই জানান, ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলে বিতর্কিত মন্তব্য করছিলেন তিনি। ফলে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগে। বন্দর এলাকায় অশান্তি শুরু হয়।
তরুণীকে একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠানো হয় বলেও জানা গিয়েছে। এমনকি থানাতেও দেখা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। যদিও থানায় তিনি হাজিরা দেননি। পরে বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন ওই তরুণী। আদালতের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। অবশেষে শুক্রবার রাতে গুরুগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে যদিও বিতর্কিত ভিডিও মুছে দেওয়া হয়। যদিও ততক্ষণে ভাইরাল ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিতর্ক আঁচ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরে নিঃশর্ত ক্ষমাও চান শর্মিষ্ঠা। একাধিক আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট মুছে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করতে চাইনি। যা কিছু বলেছি তা আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি। কেউ আঘাত পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের সহযোগিতা আশা করি। এখন থেকে আমি আমার পোস্টে সতর্ক থাকব। আবারও ক্ষমা চাইছি।”
যদিও কেন বারবার নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এমন বিতর্কিত পোস্ট শর্মিষ্ঠা করছিলেন, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। পোস্ট করার জন্য বাইরে থেকে কোনও চাপ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
