গত বছর ঠিক এই সময় উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। কোটা সংস্কারের দাবিতে পরিস্থিতি উত্তাল হলেও পরে হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় নামেন শত শত মানুষ। শেষমেশ প্রবল চাপের মুখে গত বছর ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন মুজিবকন্যা। শুধু তাই নয়, দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসেন। সেই সময় থেকে এই দেশেই রয়েছেন শেখ হাসিনা। যদিও গত কয়েক মাসে অনেক জল বয়ে গিয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে নতুন করে উত্তাল সে দেশ। আর এর মধ্যেই ফের একবার সংবাদ শিরোনামে হাসিনা। ঢাকা থেকে নয়া দিল্লি কীভাবে পৌঁছলেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এক|টি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যম। ওই সংবাদমাধ্যমের খবরকে উদ্ধৃত করে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট হাসিনার ভারতে পৌঁছানোটা ছিল একেবারেট নাটকে মোড়া।
কলকাতা বিমানবন্দরের সূত্রকে তুলে ধরে দাবি, বাংলাদেশ সেনার ট্রান্সপোর্ট বিমানের কলকাতায় নামার কথা থাকলেও রাস্তা বদলে যায়। আর সেই বিমান নামে গাজিয়াবাদে ভারতীয় বায়ুসেনার হিন্দোন বিমানবন্দরে। আর পুরোটাই করা হয়েছিল ইচ্ছাকৃত ভাবে। নজর ঘোরাতেই এই প্ল্যান ছিল বলেও দাবি ওই সংবাদমাধ্যমের। বলে রাখা প্রয়োজন, হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর গন্তব্য নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ থেকে কলকাতাতেই হাসিনার বিমান নামতে পারে বলেও জল্পনা ছিল।
কিন্তু সংবাদমাধ্যমের দাবি, কলকাতা নয়, দিল্লিই ছিল বাংলাদেশ সেনা বিমানের গন্তব্য। শুধুমাত্র নজর ঘোরাতেই কলকাতা বলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের এয়ারস্পেস থেকে কলকাতা বিমান বন্দরই ছিল সবথেকে কাছে। ফলে হাসিনার বিমান সেখানেই নামতে পারে বলে জল্পনা আরও তীব্র হয়।
সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে সিভিল অ্যাভিয়েশনের এক সূত্র জানাচ্ছে, ঢাকা এবং কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মধ্যে হটলাইনে কথা হয়, যা একে অপরকে বিমানের বিষয়ে অবহিত করে। শুধু তাই নয়। হাসিনার বিমানটিকে ‘প্রশিক্ষণ বিমান’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল ঝুঁকি এড়াতে।
ঠিক কী হয়েছিল এরপর?
সেদিন বিকেল তিনটের সময় বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের বঙ্গবন্ধু বেস থেকে হাসিনাকে নিয়ে বিশেষ বিমান ওড়ে। উদ্দেশ্যে ছিল কলকাতা। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের তরফে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ কোড। যা ছিল চার অক্ষরের। আর সেই তথ্য কলকাতা এটিসিকেও শেয়ার করা হয়েছিল বলে দাবি সে দেশের প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমে। শুধু তাই নয়, প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, বিমানটি ওড়ার পরেই ট্রান্সপন্ডার অফ করে দেওয়া হয়। যা মূলত এয়ারক্রাফটের বিশেষ কোড, উচ্চতা, গতি এবং অবস্থান দেখাতে সাহায্য করে।
কোনও রেডারে তা যাতে ধরা না পড়ে সেজন্য ওই ট্রান্সপন্ডার অফ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিমান এবং বিমানে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা ছিল চ্যালেঞ্জের। আর তাই অন্য পদ্ধতিতে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জানা যায়, বাংলার সীমান্তের কাছে ট্রান্সপন্ডার চালু ছিল। কলকাতা এটিসির সঙ্গে যাতে ওই বিমানের চালক যোগাযোগ করতে পারেন, সেই কারণে তা করা হয়েছিল বলে দাবি ওই সংবাদমাধ্যমের।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর C-130J বিমানটিকে ট্র্যাক করতে শুরু করে ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা। বলে রাখা প্রয়োজন, ওই বিমানেই শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন ছিলেন।
সবুজ সঙ্কেত ছিল নয়াদিল্লির
বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশে প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল শেখ হাসিনার। ফলে তাঁকে যাতে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়, সেই আবেদন আগেই ভারতের কাছে জানানো হয়। আর তাতে সবুজ সঙ্কেতও পাওয়া গিয়েছিল। ঢাকা থেকে দীর্ঘ যাত্রা শেষে বায়ুসেনার ঘাঁটিতে নামে হাসিনার বিমান। আর সেই খবর নিশ্চিত করেন অজিত দোভাল।
