সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
লাগাতার ভারি বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ডুয়ার্স ও তরাই এলাকায় যে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার জন্য স্থানীয় গৃহীনদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ সামগ্রী বিলির নজরদারিতে রাজ্যের ৫ জন সিনিয়র আইএএস আধিকারিকদের নিয়ে মোট আট জনের কমিটি গঠন করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালার নেতৃত্বে এই তদারকি কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষি বিপণন সচিব ওঙ্কার সিং মিনা, রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব শুভাঞ্জন দাস, রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রাম দপ্তরের সচিব পি উলগানাথন। একই সঙ্গে এই নজরদারি কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের উত্তরবঙ্গ বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, রাজ্যের সেচ ও জলপথ দপ্তরের উত্তরবঙ্গ শাখার চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং উত্তর-পূর্ব শাখার চিফ ইঞ্জিনিয়ারও। মূলত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্লাবন এবং ভূমিধসের জেরে উত্তরবঙ্গেরই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার খতিয়ান সহ ক্ষয়ক্ষতির মূল্য নির্ধারণ করবে এই বিশেষ নজরদারি কমিটি। পাশাপাশি গৃহহীন বা দুর্যোগ গ্রস্থ মানুষজনকে পুনর্বাসন দেওয়া এবং প্রাণ সামগ্রী বিলের কাজও তদারকি করবে এই বিশেষ কমিটি। রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের নির্দেশে এই নজরদারি কমিটির সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর। মূলত হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের আপার ব্যাচমেন্ট এরিয়ায় লাগাতার ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা তোর্সা জলঢাকা রাইডাক রঙ্গিত সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত নদীতে জলস্তর কোথাও বিপদ সীমার উপরে বা কোথাও বিপদসীমা ছুঁয়ে বয়ে চলেছে। এমনকি আসামের বহ্মপুত্র নদের জলস্ফীতির কারণেও নিচের দিকে জল প্রবাহিত হয়ে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ অংশে প্লাবন সৃষ্টি করেছে এবং ভাঙ্গন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খরস্রোতা তিস্তার দাপটে সিকিমের বহু অংশে ভূমিধসের কারণে যেমন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তেমনি এর রাজ্যের কালিম্পং এর বেশ কিছু এলাকায় তিস্তা বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে এবং ভূমি ধসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। উত্তরবঙ্গের নিচু অংশে জল বেড়েছে মহানন্দা, আত্রেয়ী, পুনর্ভবা নদীতেও। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উত্তরবঙ্গ জুড়ে যেরকম প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হয়েছে তেমনি সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি সম্পত্তি ও গবাদি পশু ক্ষতি হয়েছে। প্লাবনের ফলে বিঘার পর বিঘা কৃষি জমি ভেসে গিয়েছে নষ্ট হয়েছে মাঠের ফসল। স্বাভাবিকভাবেই উত্তরবঙ্গের আর্থ ও সামাজিক পরিকাঠামো এই ক্ষয়ক্ষতি যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শস্য বীমা কৃষক বীমা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনিত বিভিন্ন আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির খতিয়ান ও তার মূল্যমান নির্ধারণ এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট প্রয়োজনীয়। সে কথা মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আইএএস আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয় এই বিশেষ নজরদারি বা তদারকি কমিটি গঠন করেছে নবান্ন। উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলি পরিদর্শন করে এবং ক্ষয়ক্ষতির যাবতীয় হিসেব-নিকেশ তৈরি করে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে এই বিশেষ কমিটি। মুখ্য সচিব এই ক্ষয়ক্ষতির হিসাব খতিয়ে দেখে সেই রিপোর্ট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে পরবর্তীকালে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।
