কলমে: শঙ্খদ্বীপ মুখোপাধ্যায়
সেই সময় ইডেনে ক্রিকেট নয়, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের ফুটবল ম্যাচ হত। হয়েছে কতই না মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি ম্যাচ। এই মাঠেই নিউ ইয়র্ক কসমস দলের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলেন ফুটবল সম্রাট পেলে। তাল কাটে ১৯৮০ সালের ১৬ই আগস্ট, সে দিন লক্ষ দর্শকের সামনে কলকাতা লিগের ডার্বি ম্যাচে মাঠে নামে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। কিছু ক্ষনের মধ্যেই গ্যালারিতে ছড়ায় বিশৃঙ্খলা। পুলিশ বাধ্য হন লাঠিচার্জ করতে। দর্শকদের দেখা যায় ঝাঁপ মেরে প্রাণে বাঁচতে। সে দিন প্রাণ হারিয়েছিলেন দু’দলের ১৬ জন ফুটবলপ্রেমী।
খেলার মাঠে সেই কালো দিন ফিরল বুধবারের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। সকালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ট্রফি নিয়ে দল শহরে পৌঁছতেই সেলিব্রেশন হবে। সেই হিসেবে ছকে ফেলা হয় বিরাটদের গোটা দিনের পরিকল্পনা। বিমানবন্দরে নামার পর থেকে ভিক্ট্রি প্যারেড, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সেলিব্রেশনের পরিকল্পনা করা হয়। কর্ণটক বিধানসভার বাইরে থেকে শুরু করে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো আর সেই ভিড়েই তৈরি হয় বিপত্তি। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে একটা সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। যে সমর্থকরা স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেননি তাঁরা পাঁচিল টপকে, গাছে উঠে জোর করে স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করেন। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১১ জনের, আহত বহু। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে, এত বছরের আবেগের বিস্ফোরণ যে এভাবেও হতে পারে তা আগে থেকে জানতে বা আন্দাজ করতে ব্যর্থতা কেন কর্ণাটক পুলিশ প্রশাসনে?
