ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী তথা বিএসএফ। আর সেই কারণে ভারতের প্রতিরক্ষা এবং গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র কাছে সাহায্যে চাওয়া হয়েছে। বাংলার সঙ্গে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সীমান্ত আছে। আর এই সীমান্ত এলাকার বড় অংশ জলবেষ্টিত। আছে সুন্দরবন। আর সেখানের নজরদারিতে অনেক সময় খামতি থেকে যায়। আর সেই সমস্ত জায়গাতে ডিআরডিও’র প্রযুক্তির সাহায্যে বিশেষ নজরদারি চালাতে চায় বিএসএফ।
বিশেষ করে আধুনিক ড্রোন, রেডার এমনকী স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যাতে তীক্ষ্ণ নজর রাখা সম্ভব হয় সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযানের পরই মে’মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। আর সেখানে দেশের নিরাপত্তা সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনাতেই সুন্দরবন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে।
বলে রাখা প্রয়োজন, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত অনুপ্রবেশ একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সে দেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে পরিস্থিতি জটিল হয়ে রয়েছে এখনও। এই পরিস্থিতি সীমান্তে অনেক ক্ষেত্রেই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সুন্দরবনের ১১৩ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ খুবই। অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। আর সেখানেই নিরাপত্তাকে আরও আঁটোসাঁটো করতে চায় বিএসএফ।
যদিও গত কয়েক বছরে সীমান্ত সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিএসএফ। প্রতিনিয়ত স্পিডবোট, ছোট বোটের সাহায্যে নজরদারি রাখছেন জওয়ানরা। তৈরি করা হয়েছে ভাসমান বিএসএফ পোস্টও। কিন্তু এরপরেও নিরাপত্তায় কোথাও খামতি থেকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা বিএসএফ কর্তাদের! আর সেই কারণেই ড্রোন, রাডার, স্যাটেলাইট চিত্র এবং সিসিটিভি সহ উচ্চমানের নজরদারি প্রযুক্তিকে স্পর্শকাতর সুন্দরবন এলাকায় ব্যবহার করতে চায় বিএসএফ। আর সেই কারণে ডিআরডিও’য়ের কাছে সাহায্য চেয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক কর্তা জানিয়েছেন, বিএসএফ প্রায় ১১৩ কিলোমিটার এলাকা প্রযুক্তিগত নজরদারির আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে। ইতিমধ্যেই ইসরো এবং ডিআরডিও যৌথভাবে সমীক্ষার কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত কাজ হবে বলেও জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।
