ওবিসি তালিকা পুনর্গঠন নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, একটি সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে হিন্দু ওবিসিদের সঙ্গে বঞ্চনা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নতুন সমীক্ষার ভিত্তিতে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন ৭৬টি সম্প্রদায়কে আবার ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করে। রাজ্যের সেই সমীক্ষাতেই সংখ্যালঘু তোষণ হয়েছে বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরে এবং সুপ্রিম কোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার পর, রাজ্য তিন মাস সময় নিয়ে সমীক্ষা করে যে তালিকা তৈরি করেছে তাতেও তুষ্টিকরণ ও হিন্দুদের বঞ্চনার ছবিই স্পষ্ট।
শুভেন্দুর নির্দিষ্ট করে অভিযোগ, ওবিসি এ-তে ১০ শতাংশ ও ওবিসি বি-তে ৭ শতাংশ নিয়ে মোট ১৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তার ছত্রে ছত্রে মুসলিম তোষণের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিরোধী দলনেতার আরও দাবি, ওবিসি এ-তে ১৮০টি ‘সাবকাস্ট’-এর মধ্যে ১১৯টি ও ওবিসি-বি-তে ৯৯টি ‘সাবকাস্ট’-এর মধ্যে ৩৬টি মুসলিম ‘সাবকাস্ট’-এর জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এ ক্যাটেগরিতে প্রায় ৯০ শতাংশ ও বি ক্যাটেগরিতে প্রায় ৪৬ শতাংশ মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এর পরই সাংবাদিক বৈঠক থেকে ‘বাটেঙ্গে তো কাটেঙ্গে’ স্লোগান স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু। বলেন, “দেখুন কি ভাবে ওবিসি-তে মুসলিমদের সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে, এখনও যদি হিন্দুরা বিভক্ত থাকেন তাহলে জেনে রাখুন, মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে চলেছেন।”
শুভেন্দুর দাবি, জাতীয় ওবিসি কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, ২০১০ সালে রাজ্যে মোট ৯৯টি উপজাতি ওবিসি স্বীকৃতি পেয়েছে। এদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত উপজাতির সংখ্যা ছিল ৩৬। তিন মাস ধরে সমীক্ষা চালিয়ে রাজ্য সেখানে ১৮০টি উপজাতিকে ওবিসি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ১১৯টি উপজাতিই মুসলিম গোষ্ঠীভুক্ত বলে অভিযোগ শুভেন্দুর।
প্রসঙ্গত, গত বছর মে মাসে ওবিসি তালিকায় গলদ থাকার অভিযোগে প্রায় ১২ লক্ষ শংসাপত্র বাতিল করে কলকাতা হাইকোর্ট। পাল্টা সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। গত মার্চ মাসে সেই মামলার শুনানিতে রাজ্য তিন মাস সময় চেয়ে জুলাই মাসে পরবর্তী শুনানির আবেদন জানায়। রাজ্যের আবেদন মেনে জুলাইতে হবে পরের শুনানি। তার আগে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন শুভেন্দু।
