বিজেপি-র পরবর্তী সর্বভারতীয় সভাপতির নিয়োগ নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত দলীয়ভাবে কোনো ঘোষণা হয়নি। সূত্রের খবর, জুনের মাঝামাঝি সময় করে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনের আগে রাজ্যস্তরের সাংগঠনিক নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া আবশ্যিক। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ রাজ্যে সেই নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। উত্তরপ্রদেশে সদ্য ঘোষণা করা হয়েছে ৭০টি জেলার সভাপতির নাম। এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হয়তো খুব শিগগিরই নতুন সভাপতি নির্বাচনের পথে এগোতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার কারণে সাময়িকভাবে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সর্বভারতীয় সভাপতির নাম ঘোষণার আগে প্রথমে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর জন্য নতুন রাজ্য সভাপতির নাম চূড়ান্ত করতে চায় বিজেপি।
উত্তরপ্রদেশে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে প্রথমে একজন ব্রাহ্মণ নেতার নাম ভাবা হলেও, এখন দলের মধ্যে ওবিসি নেতাকে সভাপতি করার দাবি জোরালো হচ্ছে। কারণ আগামী নির্বাচনে ওবিসি ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাটাই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য।
মধ্যপ্রদেশে বর্তমানে একজন ওবিসি মুখ্যমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের রাজ্য সভাপতি রয়েছে। কিন্তু এবার একজন আদিবাসী নেতাকে রাজ্য সভাপতি করার কথা ভাবছে দল। কারণ আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব এখনও তুলনামূলকভাবে কম। উত্তরাখণ্ডে সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে একজন ব্রাহ্মণ নেতাই এগিয়ে রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
কিন্তু বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার দৌড়ে রইলেন কারা?
এরই মধ্যে তিনজন বড় মাপের নেতার নাম ঘুরপাক খাচ্ছে বিজেপির অন্দরমহলে, যাঁদের মধ্যে থেকেই একজন হতে পারেন দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি।
১. ধর্মেন্দ্র প্রধান: ওড়িশার এই ওবিসি নেতা বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দলীয় সংগঠনে তাঁর দক্ষতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনি।
২. শিবরাজ সিং চৌহান: মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান একবার তৃণমূল স্তরে সংগঠনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এবং বিশাল জনভিত্তি সম্পন্ন নেতা। তাঁকেও গুরুত্বপূর্ণ দৌড়ে দেখা হচ্ছে।
৩. মনোহরলাল খট্টর: সম্প্রতি হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এসেছেন খট্টর। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠনের ধারাবাহিকতায় তিনি বিজেপির উপর মহলের পছন্দ হতে পারেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন সভাপতির ক্ষেত্রে সংগঠনের অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য ও জাতিগত প্রতিনিধিত্ব,এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

