অযোধ্যার রামমন্দিরের নাম করে বড়সড় সাইবার প্রতারণা। ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে রামলালার প্রসাদ ডেলিভারির নামে অনলাইনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ। ভক্তদের থেকে মোট ৩.৮৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ। গত বছর জানুয়ারি মাসের ঘটনা। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে অযোধ্যা পুলিশ।
গত ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রামমন্দিরের উদ্বোধন হয়। সেই ধর্মীয় উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়েই ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণার ফন্দি আঁটে অভিযুক্ত। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপূরমে উইন্ডসর পার্ক এলাকার বাসিন্দা ধৃত আশিস সিং। নিজেকে আমেরিকার সিয়াটেল শহরের নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে পরিচয় দেয় সে।
জানা গিয়েছে, রামমন্দিরের উদ্বোধনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে khadiorganic.com নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে অভিযুক্ত। সেখানে অনলাইনেই অর্ডারের মাধ্যমে একেবারে বিনামূল্যে বাড়ির দুয়ারে প্রসাদ ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেই দেখে ওয়েবসাইটে প্রসাদ অর্ডার করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।
সূত্রের খবর, শুধুমাত্র ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ ৩০ হাজার পুণ্যার্থী অনলাইনে প্রসাদ অর্ডার করে ফেলেন। বিশেষ ফি বাবদ অনলাইনেই ৫১ টাকা করে নেওয়া হয় প্রত্যেক পুণ্যার্থীর থেকে। বিদেশিদের জন্য আবার অর্ডার পিছু ১১ ডলার করে নেওয়া হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এভাবে ৩.৮৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ফেলেন অভিযুক্ত।
পরে বিষয়টি অযোধ্যার রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তড়িঘড়ি অযোধ্যা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে খবর দেন তারা। এদিকে পরিস্থিতি আঁচ করে ১৩ জানুয়ারি ভারতে ফিরে আসে অভিযুক্ত ব্যক্তি। এমনকি, বিষয়টি মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিয়ে ফেলতে অযোধ্যায় যায় সে। তখনই তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, দুটি আইফোন, নগদ ১৩ হাজার ৯৭০ টাকা, একাধিক ব্যাঙ্কের নথিপত্র, ডেবিট কার্ড ও ওয়াশিংটনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও একটি হেলথ কার্ডও উদ্ধার হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
Leave a comment
Leave a comment
