বলিউডের ইতিহাসে এমন অনেক তারকা রয়েছেন, যাঁদের জীবন কাহিনি সিনেমাকেও হার মানায়। তেমনই এক নাম মহম্মদ আলি। ‘মাহমুদ’ নামে সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। এক সময়ের এই কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দেশের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া তারকাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, এমনকি তাঁর পারিশ্রমিক একাধিকবার লিড হিরোকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
মহম্মদের শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিয়ে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁকে কখনও রাস্তায় ডিম বিক্রি করতে হয়েছে, কখনও বা ট্যাক্সি চালাতে হয়েছে। এমনকি তিনি বিখ্যাত পরিচালক পি. এল. সন্তোষীর ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তাঁর বাবা মুমতাজ আলি নিজে এক সময় মঞ্চের জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন, তবে আর্থিক অনটনের কারণে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, ফলে পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে কিশোর মহম্মদের কাঁধে।
মাত্র ১১ বছর বয়সে, ১৯৪৩ সালে মহম্মদ ‘কিসমত’ নামক ছবিতে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। এরপর তিনি ‘দো বিঘা জমিন’, ‘সিআইডি’, ‘পিয়াসা’-র মতো ছবিতে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন এবং দর্শকদের নজর কাড়েন। ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয় দক্ষতা ও কমিক টাইমিং তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ৬০-৭০ এর দশকে মহম্মদের জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, তিনি অনেক ছবিতে নায়ক রাজেশ খান্না ও অমিতাভ বচ্চনের থেকেও বেশি পারিশ্রমিক নিতে শুরু করেন। সেই সময়ের হিসেবে তিনি মাত্র ১৪ দিনের শ্যুটিংয়ের জন্য ৭.৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন, যা আজকের দিনে কল্পনার অতীত।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কৌতুক অভিনেতাদের আবির্ভাব ঘটে। আসরানি, কাদের খান, দেবেন ভার্মা, পেন্টালের আগমন মহম্মদের জনপ্রিয়তায় ছায়া ফেলে। ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে তিনি খুবই সীমিত সংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁর শেষ উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ছিল ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাল্ট কমেডি ‘আন্দাজ আপনা আপনা’।
ব্যক্তিগত জীবনে মহম্মদ দু’বার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী ছিলেন বলিউডের ট্র্যাজেডি কুইন মীনা কুমারীর ছোট বোন মধু। ১৯৫৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের চার পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে ১৯৬৭ সালে মহম্মদ আর মধুর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন ট্রেসি আলিকে। তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে উঠে এসে কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো মহম্মদ আলির জীবনের গল্প সিনেমা জগতের ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে।
