সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আগামী ১৯ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার পথে নির্বাচন কমিশন। দেশে প্রথমবার ভোট শেষ হওয়ার পর দ্রুত ভোটের হার জানাতে VTR অ্যাপের সাহায্য নেবে কমিশন। ভোট চলাকালীন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর সরাসরি ECINET অ্যাপে ভোটের হার সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করবেন। রবিবার সেই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশিক্ষণের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত ডেপুটি সিইও ভোটের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের এই বিশেষ অ্যাপের প্রশিক্ষণ দেন। এই প্রথম রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের প্রশিক্ষণের কাজে যোগ দিলেন। সোমবার নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটগুলির দ্বিতীয় দফার রেনডমাইজেসন করা হবে। যে কারণে ইতিমধ্যেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সমস্ত প্রার্থীদের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। গত ২৮ মে প্রথম দফার রেনডমাইজেসন করা হয়েছিল কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের জন্য।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে কালীগঞ্জের উপনির্বাচনের জন্য ১২ডি ফর্ম সমস্ত বিশেষ উপায়ে শারীরিকভাবে সক্ষম ভোটারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এবসেন্টি ভোটার হিসেবে ১০৮৪ জন বাড়িতে বসেই ভোট দিতে পারবেন ইতিমধ্যেই যাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ১১৩৪ টি ই ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রেকর্ড অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালীগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটার যারা ভোটের কাজে নিযুক্ত তারা এই ইলেকট্রনিক ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের ভোটদান করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই ভোট কর্মী সহ মহিলা পুলিশ কর্মী এবং মাইক্রো অবজার্ভার দের যাবতীয় প্রশিক্ষণ শেষ করেছে কমিশনের আধিকারিকরা।বিশেষভাবে শারীরিক উপায়ে সক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তরকে নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন শারীরিকভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য সব রকম ব্যবস্থা রাখলেও দেখা গিয়েছে ভোটের দিন তাঁদের উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম, সেই কারণেই এবার নির্বাচন কমিশন বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তরে রাজ্যের সমাজ কল্যাণ দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ বৈঠক করা হয়। বিশেষ উপায় শারীরিকভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং তাদের ভোটাধিকারের সুরক্ষায় প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেয়া যেতে পারে এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এই ধরনের ভোটারদের জন্য ভোটের বুথের গঠন কিভাবে তৈরি করা হবে এই ধরনের ভোটারদের ভোটের বুথে আনতে হুইল চেয়ার অথবা প্রয়োজনে গাড়িতে পিকআপ ড্রপের বন্দোবস্ত কিভাবে করা হবে তা নিয়েও এই বৈঠকে আলোচনা হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করা এবং ভোট দানের পদ্ধতিসহ নতুনভাবে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের সুবিধায় কি কি পদক্ষেপ করেছে সেগুলো জানানোর জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণের কাজ ও সম্পন্ন করেছেন নির্বাচন কমিশন।
