কেরলের ভিজিনজাম সমুদ্রবন্দরে নোঙর করল বিশ্বের সবচেয়ে বড় পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমএসসি ইরিনা’। সোমবার এই বিপুলবপু জাহাজটি সেখানে পৌঁছয়। আর জাহাজ পৌঁছাতেই দেশের এই নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল।
প্রায় ৪০০ মিটার লম্বা ও ৬১ মিটার চওড়া এই জাহাজটি বহরে চারটি ফুটবল মাঠের সমান। এতে একসঙ্গে ২৪,৩৪৬টি কন্টেনার বহন করার ক্ষমতা রয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্বে সর্বোচ্চ। ২৬টি স্তরে কন্টেনার সাজিয়ে বহন করতে পারে এই অতিকায় জাহাজ। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে চালিত এই বিশাল জাহাজটি প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কার্বন নির্গমন কমাতে সক্ষম। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে চালু হয় হওয়া এমএসসি ইরিনার মাথায় উড়ছে লাইবেরিয়ার পতাকা।
ভারতের আদানি গোষ্ঠীর অধীনে পরিচালিত ভিজিনজাম বন্দর হল দেশের প্রথম মেগা ট্রান্সশিপমেন্ট কন্টেনার টার্মিনাল। ইউরোপ, পারস্য উপসাগর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যস্ততম পূর্ব-পশ্চিম সমুদ্র পথের মাত্র ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই বন্দর। কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভিজিনজাম বন্দরের গুরুত্ব বিরাট।
এ হেন বন্দরে নোঙর করল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পণ্যবাহী জাহাজ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের মতো বড় ট্রান্সশিপমেন্ট হাবগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারবে ভিজিনজাম। সম্প্রতি ‘এমএসসি তুর্কিয়ে’ ও ‘এমএসসি মাইকেল কাপেল্লিনি’-এর মতো বড় বড় কন্টেনার জাহাজও এই বন্দরে ভিড়েছে। তবে ‘এমএসসি ইরিনা’-র আগমন এক নতুন মাত্রা এনে দিল।
গত মাসেই ভিজিনজাম বন্দরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমানে এই বন্দরের দিকে নজর রাখছেন দেশ-বিদেশের বড় শিপিং সংস্থা ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। আগামী বছরগুলিতে ভারতের কন্টেনার পরিবহনের চাহিদা দ্রুত বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ভিজিনজাম বন্দর ভারতের বাণিজ্যিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে এক নতুন পরিচিতি এনে দিতে পারে।
