ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। গাজার দিকে রওনা হওয়া একটি ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ কে মাঝসমুদ্রেই আটকেছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। এই ইউকে-ফ্ল্যাগযুক্ত ইয়টটি গত ৬ জুন ইতালির সিসিলি থেকে ছেড়েছিল, উদ্দেশ্য ছিল গাজার উপকূলে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। জাহাজটিতে ছিলেন পরিবেশ আন্দোলনের পরিচিত মুখ গ্রেটা থুনবার্গ, ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, এবং আরও ১২ জন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক।
জাহাজটিতে শিশুখাদ্য, চাল, ওষুধ-সহ কিছু পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই, রাত প্রায় তিনটে নাগাদ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটিকে আটকে দেয় ইসরায়েলি সেনা বাহিনী এবং গাজার পরিবর্তে ইসরায়েলের উপকূলে টেনে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় তুলেছে জাহাজ পরিচালনাকারী সংগঠন ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’।
ইসরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সেলফি ইয়টের সেলিব্রিটিরা এখন নিরাপদে ইসরায়েলের দিকে আসছে। সবাই সুস্থ ও অক্ষত। তাদের জল ও স্যান্ডউইচ দেওয়া হয়েছে। “শো ইস ওভার”। ইজরায়েলের এহেন ঠাট্টার সুরে আরও ক্ষোভ জন্মেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, “ম্যাডলিন জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলপথে অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। আমাদের নিরস্ত্র স্বেচ্ছাসেবকদের জোর করে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং জাহাজের মূল্যবান ত্রাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।” সংগঠনের মুখপাত্র হুয়াইদা আররাফ বলেন, “ইসরায়েলের কোনো আন্তর্জাতিক অধিকার নেই আমাদের আটকানোর।”
অন্যদিকে, ফরাসি এমইপি রিমা হাসান এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, “রাত ২টো নাগাদ ইসরায়েলি সেনারা আমাদের আক্রমণ করে এবং আটক করে।” তিনি আরও দাবি করেন, জাহাজে থাকা প্রত্যেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।
২০০৭ সাল থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণে হামাস আসার পর, গাজা উপত্যকার উপর সমুদ্রপথে অবরোধ জারি রেখেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই জাহাজ অভিযানের বিরুদ্ধে আগেই কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ম্যাডলিনকে “হামাসের সমর্থনে প্রপাগান্ডা মিশন” বলে আখ্যা দিয়ে সেটিকে যেকোনো মূল্যে থামানোর নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলির দাবি, গাজার উপর এই সমুদ্র অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ। তাদের বক্তব্য, এটি একটি জঘন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিরপরাধ নাগরিকদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের একটি উদাহরণ।
