এ যেন সিনেমার চরিত্র। দিনে এক আর রাত নামলেই বদলে যায় মানুষটা।
সকালে ভদ্র পোশাক, পরোপকারী একজন প্রতিবেশী, বিলাসবহুল জীবনযাপন।
আর রাতে লুঙ্গি পরা ‘চোর’! অবাক হচ্ছেন! হ্যাঁ, অবাক করার মতো ঘটনা এই খাস বাংলায়। এমনকী পরিবার নিয়ে বিদেশ সফরও সেরে ফেলেছে। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পড়তেই সমস্ত কেলেঙ্কারি ফাঁস। গল্পের এখানেই শেষ নয়! রয়েছে মোড়ও। চোরের বাড়িতে হানা দিয়ে একেবারে চক্ষুচড়ক অবস্থা পুলিশের।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে হাওড়ার গ্রামীণের পুলিশ চুরির অপরাধে অমিত দত্ত বলে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। রাজাপুর এলাকায় একটি বাড়িতে চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে সে। বর্তমান ঠিকানা পুলিশের হেফাজত। কিন্তু এই ঘটনার তদন্তে নেমে অবাক তদন্তকারীরা আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত অমিত প্রথম থেকে পুলিশকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করতে থাকে। বাড়ির ঠিকানা ভুল জানায়। যদিও পরে আসল ঠিকানা জানার পরেই সেখানে হানা দেন তদন্তকারীরা।
বাড়িতে পৌঁছনো মাত্র অবাক কাণ্ড! তিনতলা বাড়ি। রাজকীয় বললেও কম বলা হবে। পুলিশের দাবি, বাড়ির মেঝে একেবারে দামি মার্বেল পাথরে মোড়া। শরীরচর্চার জন্য আছে ট্রেডমিল। এমনকী বাথরুমে বসানো বাথটবও। এখানেই শেষ নয়, বাড়িজুড়ে ছড়িয়ে বিলাসবহুল আসবাবপত্রও। পুলিশের দাবি, এক চোরের বাড়ি এমন হতে পারে তা কল্পনার বাইরে! পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত অমিত পরিবারকে নিয়ে বিদেশট্যুরও করেছে। গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। সম্প্রতি বিলাশবহুল একটি গাড়িও বুক করেছিল অমিত। কিন্তু তা হাতে পাওয়ার আগেই পর্দাফাঁস! পুলিশের দাবি, জেরায় অমিত জানিয়েছে সে নাকি নিয়মিত আয়করও দিত। কিন্তু এত কিছু শুধু চুরির টাকাতেই সম্ভব হয়েছে? সেটাই এখন ভাবাচ্ছে পুলিশ আধিকারিকদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সকালে ধৃত অমিত বজবজ থেকে ভাগীরথী নদী পার হয়ে উলুবেড়িয়া, রাজাপুর, বাউরিয়া এবং পাঁচলা অঞ্চলে যেত। তারপর ছেঁড়া পোশাক এবং লুঙ্গি পরে কাজে বেরিয়ে পড়ত সে। পুলিশের দাবি, তালা ভাঙার ক্ষেত্রে অমিতের পারদর্শিতা দারুণ। খুব সহজেই এই কাজ সেরে ফেলতে পারত। আর সেভাবেই একের পর এক বাড়িতে ঘটাত চুরির ঘটনা। এমনকি , জাতীয় সড়কে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও অমিত জড়িত বলে দাবি।
বলে রাখা প্রয়োজন, সম্প্রতি উলুবেড়িয়ার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঘটা চুরির ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছিল হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ। আর সেই তদন্ত চলাকালীন গোপন সূত্রে পুলিশ আধিকারিকরা খবর পান রাজাপুর এলাকার আরও এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটতে পারে। আর এরপরেই ফাঁদ পাতে পুলিশ। আর সেই ফাঁদেই পা দেয় অমিত।
পুলিশ জানিয়েছে, উলুবেড়িয়া, নিমদিঘি এবং রাজাপুর থানা এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা একের পর এক চুরির ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে পরোপকারী মানুষটা যে চোর তা কল্পনাও করতে পারছেন না প্রতিবেশী মানুষজন। বিশেষ করে ১৩ বছর আগে বাটানগরে যে অঞ্চলে অমিত থাকতেন, সেখানকার মানুষজন অবাক। তাঁদের কথায়, হঠাৎ করে এমন বিলাসবহুল জীবনে কীভাবে পৌঁছলো অমিত, তা আজ বোঝা যাচ্ছে।
