গত ২২ এপ্রিল যে কাশ্মীরে জঙ্গি হানা হয়, সেখানেই তৈরি হয়েছে নয়া এক ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে উদ্বোধন হল বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতু। চেনাব ব্রিজ। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়ে দেখা স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে চলা কর্মকাণ্ড সাফল্যের মুখ দেখল। যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত কাশ্মীরের মানুষ।
চন্দ্রভাগা অর্থাৎ চেনাব নদীর জলস্তর থেকে ৩৫৯ মিটার উঁচু এই ব্রিজ। আইফেল টাওয়ারের থেকেও উঁচু। উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেলওয়ে লিঙ্কের অংশ এটি। এই সেতু ১,৩১৫ মিটার বিস্তৃত। এমনকী এমনভাবে এই রেলসেতু তৈরি করা হয়েছে যে তীব্র ভূমিকম্পেও কিছু হবে না। দুটি পাহাড় অর্থাৎ কাটরা এবং কাজিগুন্ডকে যুক্ত করেছে চেনাব রেল সেতু। বিশেষজ্ঞদের কথায়, যেভাবে এই ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে তা আধুনিক প্রযুক্তির অপূর্ব নিদর্শন। একাধিক ইঞ্জিনিয়ার দিন
রাত জেগে ‘কল্পনাকে’ সত্যি করেছেন। আর সেই টিমের অন্যতম সদস্য হলেন রক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ জি মাধবী লাথা।
পাহাড়ের বুকে এমন একটা ব্রিজ তৈরি করা সহজ ছিল না। আর সেই সেতু তৈরিতে গোটা টিমকে নেতৃত্ব দেন জি মাধবী। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস(বেঙ্গালুরুর)-এর অধ্যাপিকা মাধবী। বিশ্বের সামনে আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিদর্শন তুলে ধরতে জীবনের ১৭ টা বছর পার করে দিয়েছেন। দিয়েছেন মেধা-শ্রম। ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে এই ব্রিজ তৈরির প্ল্যানিংয়ের কাজ শুরু হয়, ২০১৭ সাল থেকে মূল কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজ চলে ধাপে ধাপে। আর এই কাজকে একেবারে সামনে থেকে কার্যত এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন মাধবী।
কিন্তু কে এই মাধবী?
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (বেঙ্গালুরুর)-এর তথ্য অনুযায়ী, Shear Mechanism নিয়ে কাজে আগ্রহী মাধবী। মাটির শক্তি কীভাবে বৃদ্ধি সম্ভব সে বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ। আই.আই.টি. মাদ্রাজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি. করেন মাধবী। এর আগে এনআইটি ওয়ারাঙ্গল থেকে এমটেক ডিগ্রি এবং হায়দরাবাদের জেএনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শুধু জ্ঞান অর্জনই নয়, দীর্ঘ সময় অধ্যাপনার কাজের সঙ্গেও যুক্ত তিনি।আইআইএসসিতে আসার আগে মাধবী এক বছর (২০০৩-২০০৪) আই.আই.টি গুয়াহাটিতে সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। পোস্ট ডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এরপর সম্পূর্ণভাবে মাটি নিয়ে গবেষণায় মগ্ন হন মাধবী।
দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাটি এবং ভূ-সংযুক্তির উপর গবেষণা করেছেন। এমনকী ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস, বেঙ্গালুরুতেও মাটি নিয়ে বিশেষ গবেষণা করেছেন। ভূ-সংযুক্তির মাইক্রো-টপোগ্রাফিক পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলির উপর গবেষণা করেছেন। মাধবীর এই অসমান্য পাণ্ডিত্যের নজির চেনাব নদীর ওপর তৈরি বিশাল এই রেলব্রিজ।
