ঘরে বসে খাবার অর্ডার করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগ থাকে, রেস্তোরাঁয় খাবারের যা দাম, সুইগি-জ্যোমাটোতে সেই খাবারের অর্ডার করলে দিতে হয় অনেক বেশি টাকা। নানা খাতে সেগুলি ভাগ করা থাকে। এ বার সে সব থেকে মুক্তি। অ্যাপ নির্ভর বাইক, অটো এবং ক্যাব সরবরাহকারী সংস্থা র্যাপিডো এক নতুন ফর্মুলা নিয়ে ঘরে ঘরে খাবার ডেলিভারি করতে শুরু করছে। এই খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
সুইগি-জ্যোমাটো ১৬ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন ফিজ নেয়। ‘দ্য ইকনমিক টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, র্যাপিডো এই নীতি নিচ্ছে না। তারা ৮ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নেবে। স্বাভাবিক ভাবেই, খাবারের দামও কমবে। প্রাথমিক ভাবে হিসেব, এর ফলে সুইগি-জ্যোমাটো খাবারের দামের উপর যে অতিরিক্ত মূল্য চাপায় তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে র্যাপিডোর ক্ষেত্রে। অনেক ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁয় খাবারের দামের মধ্যেও বড় পার্থক্য দেখা যায়। র্যাপিডোর ক্ষেত্রে তা হবে না বলেই দাবি। জানা গিয়েছে, র্যাপিডো ৪০০ টাকা মূল্যের খাবারের জন্য ২৫ টাকা বাড়তি নেবে। ৪০০-এর বেশি টাকার অর্ডার হলে নেওয়া হবে ৫০ টাকা। শতাংশের হিসেবে যা ৮-১৫ শতাংশ। একই জায়গায় সুইগি-জ্যোমাটো নেয় ১৬-৩০ শতাংশ। ‘ন্যাশনাল রেস্টুরেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ বা ‘এনআরএআই’-এর সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি করেছে অ্যাপ নির্ভর বাইক সরবরাহকারী সংস্থা র্যাপিডো। যেখানে স্পষ্ট বলা আছে, সময় অনুযায়ী দর ওঠানামা করবে না। নির্দিষ্ট কমিশনই বজায় থাকবে সারাদিন। অর্থাৎ, রেস্তোরাঁয় খাবারের যা দাম, ঠিক তাই নেবে র্যাপিডো। সঙ্গে যুক্ত হবে একটি স্থির খরচ।
র্যাপিডোর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সুইগি-জ্যোমাটোর এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ‘দ্য হিন্দু’-এর এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে জ্যোমাটোর সিএফও-কে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, তিনি বুঝতে পারছেন না, এই মডেলে কী করে দীর্ঘদিন ধরে সস্তায় পরিসেবা দিতে পারবে র্যাপিডো।
