বাংলাদেশে নির্বাচনের সময়কাল নিয়ে নানা জটিলতার মধ্যেই ফের বিদেশ সফরে গেলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা থেকে এমিরেটস এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট ধরেন তিনি।অধ্যাপক ইউনূস আগামী ৯ থেকে ১৩ জুন যুক্তরাজ্য সফরে থাকবেন।এটি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর দশ মাসের মধ্যে একাদশ বিদেশ সফর।
এই সফরে ইউনূস ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয় এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বাংলদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করবেন।এ সময় তিনি রাজা চার্লসের হাত থেকে গ্রহণ করবেন ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
খবর অনুযায়ী,এই সফরে তাঁর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি গোপন রাজনৈতিক আলোচনা হতে পারে।বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচিত সরকার গঠনের দাবিতে নির্বাচন চেয়ে সরব হয়েছে। অযথা সংস্কারের কথা বলে ও কিছু রাজনৈতিক দলের কথা মেনে প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বরে এই নির্বাচন করাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।শুক্রবারই এক ঘোষণায় ইউনুস জানিয়েছেন, দেশটিতে নির্বাচন আগামী এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ এই সিদ্ধান্ত তিনি সেনাবাহিনী ও বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ উপেক্ষা করেই নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৩ জুন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হতে পারে।
অন্যদিকে জানা যাচ্ছে ব্রিটেনের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ তৈরি হয়েছে তা স্পষ্ট করতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনঝি।হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন টিউলিপ বিভিন্ন নীতি-বহির্ভূত সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ।ব্রিটিশ উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাসের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও তাঁকে ট্রেজারির ইকোনমিক সেক্রেটারি ও সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, “আমরা এখনও কোনও চিঠি পাইনি। তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
Leave a comment
Leave a comment
